রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন পারমাণবিক যুদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাঁস হওয়া একটি পরিকল্পনার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কোনো যুদ্ধ বড় আকার ধারণ করলে সীমিত পরিসরের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্পও নতুন কৌশলে যুক্ত করা হতে পারে। এ খবরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতিনির্ধারণী প্রধান এলব্রিজ কোলবির তত্ত্বাবধানে এই নতুন কৌশল প্রণয়নের কাজ চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচজনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে অনুসৃত পারমাণবিক নীতির তুলনায় এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
জানা গেছে, এলব্রিজ কোলবি নেব্রাস্কায় একটি সামরিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক কমান্ড পরিদর্শন করবেন। এই কমান্ড স্থলভিত্তিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, কৌশলগত বোমারু বিমান এবং পারমাণবিক সাবমেরিনের দায়িত্ব পালন করে।
নতুন পরিকল্পনার আওতায় কোনো বড় সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সামনে উপস্থাপিত পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার বিকল্পগুলোও পুনর্গঠন করা হতে পারে। পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে প্রচলিত যুদ্ধ যাতে পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ না নেয় এবং প্রতিপক্ষ যাতে সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সতর্ক করে বলেছিল, দেশটি এখন একই সময়ে দুটি প্রধান পারমাণবিক শক্তি—রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক কার্যক্রমে জড়িত বলে বিবেচিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তালিকা আরও সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে ওই তালিকায় চীন, রাশিয়া ও ইরানের মোট ১৩০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে চীনের শীর্ষ কয়েকটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা মহলের ধারণা। অভিযোগ রয়েছে, চীন বেসামরিক প্রযুক্তির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে, যা পরে ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এর বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে চীন। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আরও আধুনিক পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির প্রযুক্তিগত সহায়তাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন এই পারমাণবিক কৌশল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফাঁস হওয়া পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

