বিশ্বের শীর্ষ ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এবং যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে গণতন্ত্র, অভিবাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন জ্যাক পোলানস্কি ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের জন্য “হুমকি” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সহিংসতা ও চরমপন্থাকে উসকে দিচ্ছেন এবং সামাজিক বিভাজন বাড়াচ্ছেন।
পোলানস্কি বলেন, “এই ব্যক্তি আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তিনি সহিংসতা ও চরমপন্থাকে সমর্থন করেন। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো গোষ্ঠীর ওপর চাপানো আমাদের সমাজকে অত্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “মাস্ক, লো, ফারাজ, রবিনসন—এই ধরনের ব্যক্তিরা এই দেশের স্বার্থে কাজ করছেন না, তারা দেশকে বিভক্ত করছে।”
এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে ইলন মাস্ক কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এক ব্যবহারকারীর মন্তব্যের উত্তরে পোলানস্কিকে “একজন নোংরা মানুষ এবং বিশ্বাসঘাতক” বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে মাস্ক একটি পোস্টে লেখেন, “নিরীহ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো অভিবাসীদের কারণে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে নয়।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে সাম্প্রতিক এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর।
উক্ত ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তি একটি চোখ হারান বলে জানা গেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বেলফাস্টে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অভিবাসীদের বাড়িঘরে হামলা, গাড়ি পোড়ানো এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতির পর ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন এবং কিছু ডানপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্যও সমর্থন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ব্রিটিশ লেবার পার্টি অভিযোগ করেছে, তিনি পরিস্থিতিকে “ব্যবহার করে উত্তেজনা ও সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন।”
অন্যদিকে জ্যাক পোলানস্কি পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিদেশি প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের এমন মন্তব্য যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি বলেন, “ইলন মাস্ক আমার সম্পর্কে যা খুশি বলতে পারেন, কিন্তু আমি চুপ থাকব না, যখন বিদেশি ধনী ব্যক্তি আমাদের সমাজকে বিভক্ত করছে এবং সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিসকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতা উসকে দেওয়া কনটেন্ট দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল জানিয়েছেন, সরকার অনলাইন নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে অবৈধ বা সহিংসতা উসকে দেওয়া পোস্ট দ্রুত অপসারণ বাধ্যতামূলক করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের আগে এই ধরনের উত্তেজনা রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মন্তব্য ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

