TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামে জনশূন্যতার আশঙ্কাঃ এক বছরে ১৬ হাজারের বেশি মানুষের ‘বিদায়’

পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম বরো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। নতুন অভ্যন্তরীণ অভিবাসন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নিউহ্যামে যত মানুষ বসবাসের জন্য এসেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ বরোটি ছেড়ে যুক্তরাজ্যের অন্য এলাকায় চলে গেছেন। ফলে এক বছরে নিউহ্যামের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে নিট ক্ষতি হয়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ONS) অভ্যন্তরীণ অভিবাসন তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ১২ মাসে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ নিউহ্যামে চলে এলেও প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা বরোটি ছেড়ে অন্য এলাকায় পাড়ি জমিয়েছেন। এর ফলে নিউহ্যামের নিট অভ্যন্তরীণ বহির্গমন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ২৩৫ জন।

নিউহ্যামের এই জনবহির্গমনকে লন্ডনের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ লন্ডন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের অন্যত্র বসবাসের জন্য চলে যান, বিপরীতে প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ দেশের অন্য অংশ থেকে লন্ডনে আসেন। অর্থাৎ রাজধানীর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে বড় ধরনের নিট বহির্গমন তৈরি হয়েছে।

নিউহ্যামের ক্ষেত্রে ব্যবধানটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলে যাওয়ার বিপরীতে মাত্র ৩৪ হাজারের মতো নতুন বাসিন্দা আসায় বরোটির অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা প্রবাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে নিউহ্যামকে দেশের সর্বোচ্চ নিট অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ক্ষতির শিকার এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—কেন নিউহ্যামের মতো পূর্ব লন্ডনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে এত মানুষ অন্যত্র চলে যাচ্ছেন? স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন কারণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন পরিস্থিতি এবং লন্ডনে বসবাসের সামগ্রিক খরচের চাপ—এসব বিষয় মানুষের স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে বলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে শুধু নিউহ্যাম নয়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বড় শহরগুলোও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ক্ষেত্রে একই ধরনের চাপের মুখে পড়ছে। শহরগুলো থেকে অনেক মানুষ ছোট শহর, শহরতলি কিংবা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চলে যাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত মানুষের একটি বড় অংশ অপেক্ষাকৃত তরুণ ও দক্ষ কর্মী; শহর ছাড়লেও অনেকে এমন এলাকায় বসতি গড়েন, যেখান থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত সম্ভব।

নিউহ্যামের জন্য এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি এলাকায় মানুষ আসা-যাওয়ার ভারসাম্য শুধু জনসংখ্যার আকারকেই প্রভাবিত করে না; স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, স্কুল, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য জনসেবার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, নিউহ্যাম এখনও আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ধরে রেখেছে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে বড় ধরনের লোকসান হলেও বিদেশ থেকে নতুন বাসিন্দা আসার প্রবাহ সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তৈরি করতে পারে। এই পার্থক্যটি নিউহ্যামের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে নিউহ্যামে থাকা বাসিন্দাদের কাছ থেকেও উঠে এসেছে এলাকার ভবিষ্যৎ, জীবনযাত্রার মান ও বসবাসের সুবিধা নিয়ে নানা মতামত। কারও কাছে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, আবার কেউ মনে করছেন পরিবারের প্রয়োজন ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের জন্য অন্যত্র যাওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এই অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবাহ নিউহ্যামের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো—এই বিপুল বহির্গমন সাময়িক প্রবণতা, নাকি পূর্ব লন্ডনের এই বরোতে মানুষের বসবাসের পছন্দে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

সূত্রঃ ও এন এস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ‘ফ্রি গাজা’ প্ল্যাকার্ড ধরায় গ্রেপ্তারের হুমকি—কেন্ট পুলিশের ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ

লন্ডনের এনফিল্ডে ছিনতাইকারীর ধাক্কায় প্রাণ হারালেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি জালাল খান

ভিসা সুইচিংয়ে পাকিস্তানিদের অবৈধ প্রবেশের রেকর্ডঃ ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় চরম সংকট