TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেলের পথে নারী-শিশুসহ ৫০ অভিবাসীঃ মাথাপিছু খরচ £১,২০০

ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টার পেছনে থাকা মানবিক বাস্তবতার একটি চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক অনুসন্ধানে। প্রায় ৫০ জন অভিবাসীর একটি দলকে ছোট শিশু, নারী ও পুশচেয়ারে থাকা শিশুসহ ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চল থেকে সমুদ্রতীরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। তাদের গন্তব্য ছিল ব্রিটেনে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত বড় আকারের ডিঙ্গি নৌকায় ওঠা।

অনুসন্ধানকারীদের তথ্য অনুযায়ী, দলটি ডানকার্কের কাছে লুন-প্লাজে অবস্থিত ফ্রান্সের অন্যতম বড় অভিবাসী শিবির থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বুলোনের কাছাকাছি একো বনাঞ্চলের দিকে যায়। সেখান থেকেই তাদের চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল।

চ্যানেলের শেষ ধাপের যাত্রার জন্য প্রত্যেক অভিবাসীকে প্রায় ১ হাজার ২০০ পাউন্ড সমপরিমাণ অর্থ দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এর বাইরে নিরাপত্তার জন্য লাইফজ্যাকেট কিনতেও তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে। লুন-প্লাজ শিবিরের বিভিন্ন অস্থায়ী স্টলে একটি লাইফজ্যাকেটের দাম সর্বোচ্চ ৫০ ইউরো বা প্রায় ৪২ পাউন্ডে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা স্থানীয় দোকানের দামের প্রায় দ্বিগুণ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে শিশুদের উপস্থিতি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দলটির সঙ্গে ছোট শিশু ও নারী ছিলেন এবং কয়েকজন শিশুকে পুশচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে উত্তাল ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা তাদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন কেয়ারফোরকালে নামের একটি দাতব্য সংস্থার অপারেশনস প্রধান কেটি সুইটিংহ্যাম। তার দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার পরিবার পুনর্মিলনের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার পর থেকে লুন-প্লাজ শিবিরে নারী ও শিশুর সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে শিশু ও নবজাতকও রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে ব্রিটেনে পৌঁছানোর এই যাত্রা মোটেও সরল ছিল না। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি অনুসরণ করে দেখা যায়, প্রথমে অভিবাসীদের লুন-প্লাজ শিবির থেকে একটি বাসস্টপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা বাসে করে গ্র্যাভলিনে পৌঁছান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দ্বিতীয় একটি বাসে করে তারা কালে যান।

কালে থেকে দলটি ট্রেনে করে বুলোনে পৌঁছায়। এরপর আরও একটি বাসে তাদের বনাঞ্চলের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ বাস থেকে নামার পর অভিবাসীরা পায়ে হেঁটে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে অস্থায়ী বসতি এবং কাফেলা নিয়ে থাকার জন্য কয়েকটি ক্যাম্পিং স্পট রয়েছে।

পুরো দলটির সঙ্গে একজন লম্বা ব্যক্তি ছিলেন, যিনি তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন। লোকটির ডান হাতে একটি বিশেষ ধরনের ট্যাটু ছিল এবং তাকে কুর্দি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তার সঙ্গে অভিবাসীদের সম্পর্ক সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা পুরো যাত্রাপথে ফরাসি পুলিশও দলটির গতিবিধি অনুসরণ করে। সশস্ত্র জেনদার্মরিসহ পুলিশ সদস্যরা অভিবাসীদের সঙ্গে বনাঞ্চলের ভেতর পর্যন্ত যান। কিন্তু তাদের আটকানো বা যাত্রা বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করা হয়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এই ঘটনা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার পেছনে থাকা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি এবং সমুদ্রযাত্রার জন্য বিপজ্জনকভাবে ছোট নৌকার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ও অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে ব্রিটেনে আসার প্রবণতা বন্ধ করা নিয়ে ব্রিটিশ ও ফরাসি কর্তৃপক্ষের ওপরও চাপ বাড়ছে।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য সতর্কতা, বন্যপ্রাণীদের জন্য পানি রাখার আহ্বান

বন্ধ হয়ে যেতে পারে যুক্তরাজ্যের শত শত কারি হাউস

কাঁচা মাংস ছুঁড়ে হয়রানি: তামাশা নাকি ষড়যন্ত্র?

অনলাইন ডেস্ক