6.5 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বন্ধের মুখে ব্রিটেনের সবচেয়ে পুরোনো ভারতীয় রেস্তোরাঁঃ রাজা চার্লসের হস্তক্ষেপ কামনা

প্রায় এক শতাব্দী ধরে পরিচালিত ব্রিটেনের সবচেয়ে পুরোনো ভারতীয় রেস্তোরাঁ ভীরাস্বামী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে। ১৯২৬ সাল থেকে লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রেস্তোরাঁটির লিজ নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রাউন এস্টেট, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদের মুখে পড়েছে।

 

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভীরাস্বামীর সমর্থকেরা সরাসরি রাজা চার্লসের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের মতে, ভীরাস্বামী কেবল একটি রেস্তোরাঁ নয়, বরং ব্রিটেন ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে গড়ে ওঠা যৌথ সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি জীবন্ত অংশ, যা সংরক্ষণের দাবি রাখে।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী মাসেই ভীরাস্বামী তাদের ১০০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে। সমর্থকদের যুক্তি, এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রাক্কালে একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অগ্রহণযোগ্য।

ক্রাউন এস্টেট, যা একটি স্বাধীন সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং যার আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে যায়, জানিয়েছে যে ভীরাস্বামী যে গ্রেড টু তালিকাভুক্ত ভবনে অবস্থিত—ভিক্টরি হাউস—সেখানে বড় ধরনের সংস্কারকাজ প্রয়োজন। জমির মালিকপক্ষের এক মুখপাত্র বলেন, “এটি কোনো হালকাভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়।”

সম্পত্তি কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটিকে অফিস স্পেসে রূপান্তরের পরিকল্পনার কারণে সংস্কার শেষে সেখানে রেস্তোরাঁটি রাখা সম্ভব হবে না। ফলে ভীরাস্বামী কার্যত অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়বে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে, চলতি গ্রীষ্মের শেষ দিকে বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে বলে জানা গেছে।

ভীরাস্বামী রক্ষায় শুরু হওয়া প্রচারণায় ইতোমধ্যে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। সমর্থকেরা এই পিটিশন বাকিংহাম প্যালেসের ফটকে গিয়ে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে রাজপরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

এই আন্দোলনে রান্নাবিষয়ক বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিরাও যুক্ত হয়েছেন। সেলিব্রিটি শেফ রেমন্ড ব্ল্যাং, মিশেল রু ও রিচার্ড করিগান প্রকাশ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। করিগান বলেন, “ইউরোপের শহরগুলো তাদের কিংবদন্তি রেস্তোরাঁকে আগলে রাখে। তাহলে আমরা কেন ভীরাস্বামীকে হারাতে চাই?”

ভীরাস্বামী চালু হওয়ার সময় ব্রিটেনে ভারতীয় রেস্তোরাঁ ছিল প্রায় বিরল। তখন এর অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের মানুষ, উপমহাদেশ–সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি লন্ডনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

রেস্তোরাঁটির অতিথি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, স্যার উইনস্টন চার্চিল, চার্লি চ্যাপলিন ও মার্লন ব্র্যান্ডোর মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্লিটজ চলাকালীনও রেস্তোরাঁটি খোলা ছিল এবং পরবর্তী সময়ে প্রিন্সেস অ্যান, ডেভিড ক্যামেরন ও অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের মতো নামকরা অতিথিদের স্বাগত জানিয়েছে।
সহ-মালিক রঞ্জিত মাথরানি বলেন, ভীরাস্বামী ব্রিটেনে ভারতীয় খাবারের গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।

তার ভাষায়, বহু গ্রাহক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রেস্তোরাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগের গল্প শেয়ার করেন।

এখন দেখার বিষয়, শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি আদৌ রাজকীয় হস্তক্ষেপ বা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে টিকে থাকতে পারে কি না—নাকি লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিট আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হারাতে যাচ্ছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ক্রিসমাস ও নববর্ষে বন্ধ থাকতে পারে পাব ও রেস্তোরাঁ

অনলাইন ডেস্ক

রানির স্বাস্থ্যের অবনতি, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

অনলাইন ডেস্ক

দুই ডোজ টিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে কোয়ারেন্টিন লাগবে না

অনলাইন ডেস্ক