14.5 C
London
September 8, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের গরুর মাংসের প্রশংসা করে তোপের মুখে কলকাতার স্বনামধন্য অভিনেতা

কলকাতার খ্যাতিমান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বাংলাদেশে এসে গরুর মাংস খাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেটিজেনদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত করেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। এ দেশের পরিবেশ ও সংস্কৃতির পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের পছন্দের খাবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি ইলিশ মাছ ও গরুর মাংসের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানান।

বিশেষ করে বাংলাদেশে এসে তৃপ্তি সহকারে গরুর মাংস খাওয়ার কথা উল্লেখ করে অভিনেতা জানান, সেদিন বিকালেও তিনি গরুর মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গরুর মাংসের স্বাদই আলাদা।

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া একজন শিল্পী হিসেবে তার এমন খাদ্যাভ্যাস ও প্রকাশ্য মন্তব্যকে ধর্মীয় রীতিনীতি ও সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন নেটিজেনদের একটি অংশ।

সমালোচকদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর অভিনীত সিনেমা ও নাটক বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি কলকাতার কিছু মানুষ তাকে নিজ রাজ্য বা দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের কেউ কেউ তাকে বাংলাদেশেই স্থায়ীভাবে থাকার কথাও বলেছেন।

তবে এই সমালোচনার বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পক্ষ বিশ্বজিতের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কী খাবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে অন্য কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত পছন্দের সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।

এই পক্ষের মতে, বিশ্বজিৎ কাউকে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন না কিংবা নিজের খাদ্যাভ্যাস অন্যের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন না। ফলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত খাদ্যপছন্দের কারণে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে আক্রমণ, অপমান কিংবা তার কাজ বয়কটের ডাক দেওয়া অযৌক্তিক।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ। অভিনয়জীবনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। ফলে তার ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে শিল্পীর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিল্পীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সঙ্গে তার পেশাগত যোগ্যতা বা শিল্পীসত্তাকে এক করে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। তবে মতপার্থক্য বা সমালোচনার ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি কিংবা সামাজিক বয়কটের আহ্বান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া হুড

এম.কে

আরো পড়ুন

আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন দিগন্তঃ বিশ্বমঞ্চে ঢাকার জন্য অপেক্ষা করছে বড় সুযোগ

উত্তরার বিজিবি মার্কেটে আগুন

মিয়ানমার নিয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ, ভারত, চীনের হিসাব-নিকাশ