18.4 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ভারতের অস্বস্তিঃ শ্রিংলার বক্তব্যে প্রকাশ পেল নয়াদিল্লির চাপ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে নিশানা করে ভারতের রাজ্যসভা সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার করা মন্তব্যকে ঘিরে এ আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক ২৪কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রিংলা ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতা নয়াদিল্লিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পারে।

শ্রিংলা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় অভিযোগ তুলে বলেন, ভারতের সম্মান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি ‘ছিনিমিনি খেলছেন’। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাবলি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতির বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

সাক্ষাৎকারে শ্রিংলা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে—এমন প্রসঙ্গও টেনে আনেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন মামলা এবং তরুণ বিপ্লবী ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দুই আসামিকে ভারত রক্ষা করছে—এমন অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

শ্রিংলার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতির পরিবর্তন নিয়ে। তিনি দাবি করেন, অতীতে ভারতের আহ্বানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সহজেই সাড়া দিলেও বর্তমানে আঞ্চলিক কূটনীতিতে পরিস্থিতি বদলেছে এবং আফগানিস্তানকে নিয়েও ভারতকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ পরিবর্তনের জন্যও তিনি তারেক রহমানকে দায়ী করেন।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও শ্রিংলা কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান অংশ না নিলেও ১০ সেপ্টেম্বরের আগে কেবল মধ্যাহ্নভোজের জন্য ভারতে এলেও ভারত তাকে যথেষ্ট আতিথেয়তা দিত। তার এই মন্তব্যকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে ভারতের প্রত্যাশা ও কূটনৈতিক আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, শ্রিংলার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ভূমিকা এখন কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ভারতের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রশ্নে বিদেশি কোনো পক্ষের প্রত্যাশা বা চাপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

এদিকে শ্রিংলার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দিয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্যকে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানকে ঘিরে শ্রিংলার মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ব্রিকসকে ঘিরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিক টাইমস\ দ্য নিউ ইয়র্ক-২৪

এম.কে

আরো পড়ুন

সাবেক মন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী গ্রেপ্তার

ডিজিএফআই’র সহায়তায় ব্যাংক খাত থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে হাসিনার দোসররা

সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গ্রেপ্তার