17.7 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সাফারি পার্ক হতে লেমুর চুরিঃ ভারতে পাচার, ঠাঁই হলো আম্বানির ‘বনতারা’য়!

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটির সন্ধান মিলেছে ভারতে। প্রাণী দুটি বর্তমানে ভারতের গুজরাটের জামনগরে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’য় রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির তদন্ত এবং মামলার আসামিদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি করা হয়। তদন্তে নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামের এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি লেমুরগুলো চুরি করেন বলে তথ্য উঠে এসেছে।

চুরির পর লেমুরগুলো প্রথমে বাংলাদেশের একটি বাড়িতে রাখা হয়। পরে প্রাণীগুলোর ছবি ও ভিডিও ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তি বাংলাদেশে এসে দেলোয়ার ও তপনের মাধ্যমে লেনদেনের সমন্বয় করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবক ১৭ লাখ টাকায় এবং আরেকটি শাবক ৩ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। পরে দুটি লেমুরকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়।

সীমান্ত পেরিয়ে লেমুর দুটি একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে গুজরাটের জামনগরে পৌঁছায়। এরপর সেগুলো ‘বনতারা’ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে সিআইডির তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনতারায় থাকা লেমুর দুটির ছবি প্রকাশের পর বাংলাদেশের তদন্তকারীদের নজরে আসে বিষয়টি। ছবিতে থাকা প্রাণীগুলোর সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুরের মিল খুঁজে পান তারা। এরপর প্রাণী দুটির পরিচয় ও উৎস নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে লেমুর দুটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শনাক্তকরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চুরি হওয়া প্রাণীগুলোর কোনো মাইক্রোচিপ, স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর কিংবা সংরক্ষিত ডিএনএ প্রোফাইল ছিল না। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা একটি শাবকের ডিএনএ পরীক্ষা করে ভারতে থাকা লেমুর দুটির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণীগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

‘বনতারা’ রিলায়েন্স গোষ্ঠীর মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা একটি বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন অনন্ত আম্বানি।

রিংটেইল লেমুর মাদাগাস্কারের স্থানীয় প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় প্রজাতিটিকে ‘গুরুতরভাবে বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সাইটিসের পরিশিষ্ট-১-এর অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ শর্ত ছাড়া এ ধরনের প্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ।

সিআইডি জানিয়েছে, লেমুর চুরির ঘটনায় করা মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে চুরি, পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা এবং ভারতে লেমুর দুটির পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ডেইলি রেকর্ড বিডি

এম.কে

আরো পড়ুন

ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূতের কূটনৈতিক বার্তাঃ আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ কোম্পানির প্রতিনিধিদল

জামিল ইকবাল সিলেটের একমাত্র গোল্ড ট্যাক্সকার্ড হোল্ডার নির্বাচিত

অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলকে ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধের প্রস্তাব