7.9 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা প্রদানের একচেটিয়া দাবিতে ধাক্কা খেল আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিএনপি সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপিত হওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেছেন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় থাকার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রধান রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দলটির রাজনৈতিক বক্তব্যে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থাকলে হিন্দু সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক হামলা ও নিপীড়নের ঝুঁকিতে পড়বে। তবে এবারের দুর্গাপূজা বিএনপি সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়ায় সেই দাবির যথার্থতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন লেখক।
আওয়ামী লীগ আমলে সাম্প্রদায়িক হামলার চিত্রঃ
লেখায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ৩ হাজার ৭১০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ২ হাজার ১৬টি বাড়ি, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মন্দির, প্রতিমা ও উপাসনালয় লক্ষ্য করে ১ হাজার ৬৭৭টি হামলার ঘটনা ঘটে।
একই সময়ে অন্তত ১০ জন হিন্দু নিহত এবং ৮৬২ জন আহত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ৭৬১টি হিন্দু বাড়ি, ১৯৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ২৪৭টি মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলার তথ্যও তুলে ধরেছেন লেখক।
২০২১ সালের দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নথিভুক্ত তথ্যের বরাত দিয়ে লেখায় বলা হয়েছে, ওই সহিংসতা ও পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি পূজামণ্ডপ এবং ২৫টি বাড়ি ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সাতজন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন।
এসব ঘটনার উল্লেখ করে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে, তখন দলটিকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার একমাত্র নিশ্চয়তা হিসেবে উপস্থাপনের রাজনৈতিক বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য।
২০২১ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রানা দাশগুপ্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কারও কারও বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন বলেও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দুর্গাপূজাঃ
২০২৬ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশজুড়ে ৬ হাজারের বেশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন সদস্য মোতায়েন এবং মন্দির ও পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে লেখায়।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন স্থানে পূজা উদযাপনে অংশ নেন। কয়েকটি দেশের কূটনীতিকও উৎসবে যোগ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু—এটি মূল বিষয় নয়। একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি বাংলাদেশি।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও দুর্গাপূজা আনন্দমুখর করতে সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে লেখক ফাহাম আবদুস সালাম অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে।
বিএনপির অতীতও আলোচনার বাইরে নয়ঃ
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করলেও বিএনপির অতীত ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করেছেন ফয়সাল মাহমুদ। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন ঘিরে হামলার ঘটনাগুলো বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকের মূল বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মধ্যে কোনো একটি দলের ক্ষমতায় থাকার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও অধিকার রক্ষা করা। একই সঙ্গে হিন্দু নাগরিকদের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন, বিরোধিতা কিংবা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকার স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের সাফল্য শুধু দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রদায়িক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তির সুরক্ষা এবং সারা বছর সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সরকারের প্রকৃত ভূমিকা মূল্যায়িত হবে।
ভারতীয় টেলিভিশনমাধ্যমে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন, প্রকৃত হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা অবশ্যই প্রকাশ্যে আনতে হবে। তবে যাচাই করা তথ্যের পরিবর্তে ভবিষ্যতে অনিবার্য বিপর্যয় ঘটবে—এমন ধারণা প্রচার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
সূত্রঃ ডেইলি ওয়াদা
এমকে

আরো পড়ুন

র‍্যাব নিয়ে ডয়চে ভেলের তথ্যচিত্র যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে

হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলে আবেদনের প্রস্তুতি শুরু

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে

নিউজ ডেস্ক