22.5 C
London
June 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বার্নহামের সামনে কঠিন পরীক্ষাঃ প্রধানমন্ত্রী হলে একসঙ্গে সাত বড় সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব অ্যান্ডি বার্নহাম যদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তাকে একসঙ্গে সাতটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে—যা তার শাসনের প্রথম দিনগুলো থেকেই দিকনির্ধারণী ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি দায়িত্ব নেবেন এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের (রিসেট) আলোচনা চালাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় চীনের প্রভাব এবং মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনশীল অবস্থানও নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলবে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা বার্নহামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও তাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি অতীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় অবস্থান কিছুটা নমনীয় করেন। ফলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী “রিসেট চুক্তি” বাস্তবায়ন নাকি আরও স্বাধীন নীতি গ্রহণ—এই দ্বন্দ্ব তার সামনে থাকবে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও পরিস্থিতি কঠিন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বিদ্যুৎ–পানি–রেল ভাড়া হ্রাস এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনের মতো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গেলে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা খাতেও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেনাবাহিনীর বাজেট ঘাটতি এবং ন্যাটো–রাশিয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ রয়েছে। তবে সামাজিক কল্যাণ ব্যয় না কমিয়ে এই অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা বার্নহামের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তিনি একাধিক জটিল ইস্যুর মুখোমুখি হবেন। বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, বিশেষ করে জুরি ট্রায়াল সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক ইতিমধ্যেই তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে কল্যাণ খাত সংস্কার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং তরুণদের বেকারত্ব—এসব বিষয় সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যবসা খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কও বর্তমানে টানাপোড়েনে রয়েছে। কর বৃদ্ধি ও শ্রমনীতি সংস্কারের কারণে ব্যবসায়িক আস্থা কমেছে। বার্নহাম “ব্যবসাবান্ধব সমাজতন্ত্র” ধারণার কথা বললেও বড় কর নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেননি।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীত্ব শুরু হলে তাকে একসঙ্গে বৈশ্বিক কূটনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হবে। এই বহুমাত্রিক সংকট তার নেতৃত্বের সক্ষমতার প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তি কার্যকর: প্রথম অভিবাসী একজন ভারতীয়কে ফ্রান্সে ফেরত পাঠাল ব্রিটেন

অতিরিক্ত জোরে শিশুকে নাড়াচাড়া করায় হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যুঃ বাঙ্গালী পিতার বিচার শুরু

ভ্যাম্পায়ার ডিভাইস বন্ধ করে ১৪৭ পাউন্ড সাশ্রয় সম্ভব