18.7 C
London
August 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বিদেশি শিক্ষার্থী টানতে নতুন কৌশলে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়েরঃ £৮,০০০ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়

বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের অন্তত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর কোর্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় দিচ্ছে। এসব ছাড় পেতে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে না; ভর্তি নিশ্চিত হলেই অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি কমে যাচ্ছে।

এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন মেধাভিত্তিক সীমিত স্কলারশিপের পরিবর্তে বড় পরিসরে সরাসরি ফি ছাড় দেওয়ার পথে হাঁটছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। কঠোর ভিসা নীতি এবং অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপর চাপ বেড়েছে।

ছাড়ের তালিকায় সবচেয়ে বড় সুবিধা দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত এবং স্নাতক পর্যায়ে ৬ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি ছাড় দিচ্ছে। রাসেল গ্রুপের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম আন্তর্জাতিক পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ছাড়াই ৩ হাজার পাউন্ড ডিসকাউন্ট চালু করেছে। একইভাবে ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট চীন, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স কোর্সে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মাস্টার্স কোর্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ৩৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছায়। তাই বর্তমান ছাড়কে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শিক্ষার্থী ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের পরিচালক জুলিয়ান ওয়েস্টউড সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছোট ছোট স্কলারশিপের পরিবর্তে ব্যাপক পরিসরে ডিসকাউন্ট দেওয়ার দিকে ঝুঁকছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও কম ফি আদায় হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিকল্পনা চাপে পড়তে পারে।

শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য ব্র্যান্ড এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিনাত ফায়াজ বলেন, এই মূল্যযুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে উল্টো ফল দিতে পারে। তাঁর দাবি, কিছু উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ফি কমাচ্ছে না, ভর্তি যোগ্যতার শর্তও শিথিল করছে, যা উচ্চশিক্ষা খাতে একটি নেতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

অফিস ফর স্টুডেন্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পোস্টগ্র্যাজুয়েট টিউশন ফি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড থেকে কম।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আরও কমে গেলে পুরো উচ্চশিক্ষা খাত বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তারা ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী লেভি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এই নীতির আওতায় প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে ৯২৫ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে।

রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার মতে, সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো এই সাফল্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নেট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ছোট নৌকায় ফেরত আসা ইরানি আশ্রয়প্রার্থীকে দ্বিতীয়বার দেশে ফেরানোর উদ্যোগে তীব্র সমালোচনা

বরিস জনসন কী ‘অর্থের বিনিময়ে প্রবেশের সংস্কৃতি’ তৈরি করেছে?

যুক্তরাজ্যে সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার