17.7 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
ফিচার

বিশ্বের সর্বোচ্চ আইকিউধারীর দাবি: ‘ঈশ্বর আছেন’, বিজ্ঞান-গণিতেই খুঁজে পেয়েছেন সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষক ইয়ংহুন কিম মহাবিশ্বের উৎপত্তি, এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন এবং জীবনের জটিলতাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এত বিশাল ও নিয়মতান্ত্রিক মহাবিশ্ব এবং জীবনের অস্তিত্বের পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব রয়েছে।

কিমের যুক্তির একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হলো মহাবিশ্ব কেন অস্তিত্বশীল—এই প্রশ্ন। মহাবিশ্ব যদি একসময় অস্তিত্বহীন থাকে, তাহলে কীভাবে তার অস্তিত্ব শুরু হলো এবং সেই অস্তিত্বের মূল কারণ কী—এ প্রশ্ন থেকে তিনি সৃষ্টিকর্তার ধারণার দিকে যুক্তি এগিয়ে নেন।

তার বক্তব্যে কারণ-কার্য সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। দৃশ্যমান জগতের ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় মহাবিশ্বের অস্তিত্বেরও একটি চূড়ান্ত কারণ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি যুক্তি দেন। তার মতে, মহাবিশ্ব নিজেই নিজের চূড়ান্ত কারণ হতে পারে না; এর পেছনে মহাবিশ্বের বাইরে কোনো মৌলিক কারণ বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকতে হবে।

মহাবিশ্বের নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোকেও কিম তার যুক্তির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম, গাণিতিক সম্পর্ক এবং মহাজাগতিক কাঠামোর মধ্যে যে নির্দিষ্টতা দেখা যায়, তা কীভাবে সৃষ্টি হলো—এ প্রশ্নকে তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক যুক্তি হিসেবে দেখেন।

জীবনের উৎপত্তি ও জটিলতাও তার আলোচনার আরেকটি বিষয়। জীবন্ত প্রাণীর গঠন, তথ্য সংরক্ষণ ও জৈবিক প্রক্রিয়ার পারস্পরিক সমন্বয় কীভাবে তৈরি হলো—এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে তিনি সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে যুক্তির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

গণিত নিয়েও কিমের আলোচনায় মহাবিশ্বের সঙ্গে গাণিতিক নিয়মের সম্পর্ক উঠে এসেছে। তার বক্তব্যের ধারায়, প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনা গাণিতিক নিয়মে বর্ণনা করা সম্ভব হওয়া মহাবিশ্বের অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করে এবং সেই শৃঙ্খলার উৎস নিয়েও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

কিম ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে যুক্তি দিতে গিয়ে মানুষের চেতনা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। মানুষের চিন্তা, যুক্তি, আত্মসচেতনতা ও জটিল মস্তিষ্ক কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে—এসব প্রশ্নকে তিনি সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কিত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

তার বক্তব্যে “কেন কিছু আছে, কিছুই নেই কেন”— এই মৌলিক দার্শনিক প্রশ্নটিও গুরুত্ব পেয়েছে। মহাবিশ্ব, পদার্থ, শক্তি, জীবন ও চেতনার অস্তিত্বের পেছনে একটি চূড়ান্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে যুক্ত করেন।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে কিমের অবস্থান শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রকাশ্য বক্তব্যে বিজ্ঞান, গণিত, যুক্তিবিদ্যা, মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং মানুষের চেতনার মতো বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয় থেকে তিনি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

কিম প্রকাশ্য বক্তব্যে ঈশ্বর এবং যিশু খ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন। তার বিশ্বাসের সঙ্গে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে তার দার্শনিক অবস্থানের সম্পর্ক রয়েছে।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে তার উপস্থাপিত যুক্তির মূল প্রশ্নগুলো হলো—মহাবিশ্বের অস্তিত্বের প্রথম কারণ কী, মহাবিশ্বের নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর উৎস কোথায়, জীবনের জটিলতার পেছনে কী রয়েছে এবং মানুষের চেতনা কীভাবে সৃষ্টি হলো। এসব প্রশ্নের উত্তরে কিম সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে একটি মৌলিক ব্যাখ্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তার এই অবস্থান মূলত মহাবিশ্বের প্রথম কারণ, নিয়মতান্ত্রিকতা, জীবনের জটিলতা এবং চেতনার অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এসব বিষয়কে একত্র করে কিম ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে তার যুক্তি প্রকাশ করেছেন।

সূত্রঃ GIGA Society, YoungHoon Kim-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, NeuroStory এবং কিমের প্রকাশ্য বক্তব্য

এম.কে

আরো পড়ুন

হ্যারি-মেগানের সন্তান আর্চি যে কারণে ‘প্রিন্স’ উপাধি পায়নি

অনলাইন ডেস্ক

বাতাস থেকে সরাসরি পুষ্টি পেতে পারে মানবদেহঃ গবেষণা

প্রথমবার রোগীর শরীরে ইতিবাচক ফল দেখালো রাশিয়ার ক্যান্সার টিকা