28.4 C
London
June 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে অভিবাসন ইস্যুতে তীব্র বিতর্কঃ ‘বোরিসওয়েভ’ নিয়ে কড়া অবস্থানে নাইজেল ফারাজ

যুক্তরাজ্যে ব্যাপক অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজাল ফারাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে কনজারভেটিভ সরকারের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করে এটিকে “বোরিসওয়েভ” আখ্যা দিয়েছেন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুতর সতর্কতা দিয়েছেন।

ফারাজ দাবি করেন, ব্রিটিশ জনগণ কখনোই কম দক্ষ বিদেশি নাগরিকের ব্যাপক অভিবাসনের পক্ষে ভোট দেয়নি। তার মতে, এই অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কাজ করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না, ফলে তারা রাষ্ট্রের কল্যাণব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এই নীতির ফলে প্রতিটি ব্রিটিশ পরিবারের ওপর গড়ে প্রায় ২০ হাজার পাউন্ড আর্থিক বোঝা পড়তে পারে।

রিফর্ম ইউকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ফারাজ জানান, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কনজারভেটিভ সরকার প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দিয়েছে। তার দাবি, এই অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ কাজের ভিসায় এসেছে, বাকিরা নির্ভরশীল হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা কল্যাণ ব্যয় আরও বাড়াচ্ছে।

ফারাজের ভাষায়, “বোরিসওয়েভ” একটি অর্থনৈতিক সময়বোমা, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৬ থেকে ২২ লাখ অভিবাসী শিগগিরই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পাওয়ার যোগ্য হবে, যার মাধ্যমে তারা পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ সুবিধা পাবে এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারবে।
তার হিসাব অনুযায়ী, এই অভিবাসীদের জন্য কল্যাণ ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোগত ব্যয় মিলিয়ে মোট খরচ ৬২২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বার্ষিক বাজেটের তিনগুণেরও বেশি।

এদিকে লেবার সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদানে বিলম্ব ঘটানোর প্রস্তাব দিলেও, দলীয় ভেতরের চাপের কারণে সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন ফারাজ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছেন।

ফারাজ বলেন, ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে অভিবাসীদের আগমন নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, তার তুলনায় বৈধ নীতির মাধ্যমে হওয়া এই “বোরিসওয়েভ” অনেক বড় সমস্যা। তার মতে, এটি পরিকল্পিতভাবে কনজারভেটিভ সরকারের নীতির ফল।

রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল করে পাঁচ বছরের নবায়নযোগ্য কাজের ভিসা চালু করা, অভিবাসীদের জন্য বেতনসীমা বৃদ্ধি, বিদেশি নাগরিকদের জন্য কল্যাণ সুবিধা ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন থেকে বের হয়ে আসা।

ফারাজ ঘোষণা দেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে এই অভিবাসন নীতির বিষয়ে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে, যেখানে সাবেক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ব্রেক্সিটের পর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও রাজনৈতিক বিভাজন বিদ্যমান, এবং এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

সাবিনা নেসা হত্যার দায় স্বীকার করলেন গ্যারেজকর্মী

অনলাইন ডেস্ক

গুলশানে বিলাসবহুল ভবনের বাসিন্দার তালিকায় ছিল টিউলিপের নাম

মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে পুনঃব্যবহারযোগ্য টয়লেট পেপার ক্রয়ের পরামর্শ