ব্রিটেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে অবাধ চলাচল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে ‘খোলামেলা আলোচনা’ করতে চান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে চান তিনি। তবে তার এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ ফিরে পাওয়া কিংবা একক বাজারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করতে চান বার্নহ্যাম। একক বাজারে যোগ দিতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অবাধ চলাচলের বিষয়টিও মেনে নিতে হবে।
সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘এ বিষয়ে একটি তথ্যনির্ভর ও যথেষ্ট প্রমাণভিত্তিক বিতর্ক হওয়া দরকার।’
২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির ইশতেহারে অবাধ চলাচল পুনর্বহাল, একক বাজারে যোগদান এবং শুল্ক ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছিল। ফলে এসব বিষয়ে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের সময় অভিবাসন ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে বার্নহ্যামের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকার সময়কার অভিবাসনের ধরন বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে আলাদা ছিল। তখন তুলনামূলকভাবে তরুণদের অনেকে কয়েক বছরের জন্য ব্রিটেনে আসতেন এবং পরে নিজ দেশে ফিরে যেতেন। এতে ব্রিটিশ নাগরিকদেরও ইউরোপে যাতায়াতের সুবিধা হতো।
বার্নহ্যাম বলেন, অবাধ চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা ছিল, যা নিয়ে তিনি আগেও পার্লামেন্টে কথা বলেছেন। তবে তখনকার অভিবাসনের ধরন বর্তমান সময়ের চেয়ে কম জটিল ছিল বলে তার ধারণা। তার মতে, আগে অনেকে ব্রিটেনে এসে আবার নিজ দেশে ফিরে যেতেন। বর্তমানে অভিবাসনের সামগ্রিক চিত্র বদলে গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
আগামী ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বার্নহ্যামের। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্প জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি।
তবে ইউরোপের সীমান্তহীন শেনজেন অঞ্চলে যোগ দেওয়া কিংবা ব্রিটিশ পাউন্ড বাদ দিয়ে ইউরো গ্রহণের বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, শেনজেন বা ইউরো গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রস্তাব সমর্থন করার কথা তিনি ভাবতে পারেন না।
বার্নহ্যামের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। তার মতে, ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়া জনগণের সঙ্গে এটি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। ফারাজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ চলাচল ফিরিয়ে আনার আলোচনা ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে তার দল বিরোধিতা করবে।
কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, অবাধ চলাচল ফিরিয়ে আনা হলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসনের ওপর ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে। ব্রিটিশ জনগণ অবাধ চলাচল বন্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা আর ফিরিয়ে আনা উচিত নয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বোঝাপড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বার্নহ্যাম। দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও খেলাধুলা নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাস থেকেও শক্তি পান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

