TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে দ্য টেলিগ্রাফে আর লিখতে পারবেন না নাইজাল ফারাজ

ব্রিটেনের ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নেতা নাইজেল ফারাজের জন্য বড় ধাক্কা। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফে তার নিয়মিত কলাম লেখা বন্ধ হতে যাচ্ছে। পত্রিকাটির নতুন মালিকপক্ষের অধীনে একের পর এক ডানপন্থী লেখক ও ভাষ্যকারের বিদায়ের ধারাবাহিকতায় এবার বাদ পড়ছেন রিফর্ম ইউকে দলের নেতা ফারাজও।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, টেলিগ্রাফে নিয়মিত লেখার জন্য ফারাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে চুক্তি শেষ হওয়ার কারণ নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, টেলিগ্রাফের নতুন জার্মান মালিক প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার ফারাজের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে ফারাজের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পত্রিকাটির পরিবর্তিত সম্পাদকীয় অবস্থান পছন্দ না হওয়ায় তিনি নিজেই গত শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেলিগ্রাফে লেখার জন্য ফারাজ মাসে প্রায় চার হাজার পাউন্ড পেতেন। তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যক কলাম লেখার চুক্তিতে না থাকলেও নিয়মিতভাবে পত্রিকাটিতে লিখতেন।

গত সপ্তাহেও টেলিগ্রাফে প্রকাশিত তার কলামে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রথম বাজেটের সমালোচনা করেছিলেন ফারাজ। একই লেখায় তিনি বিদেশিদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধ, নেট জিরো লক্ষ্যমাত্রা বাতিল এবং বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপকভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

ফারাজের বিদায়ের ঘটনা এমন সময় সামনে এলো, যখন টেলিগ্রাফের ডানপন্থী কলামিস্ট অ্যালিসন পিয়ারসনেরও পত্রিকা ছাড়ার আলোচনা চলছে। পত্রিকাটির নতুন মালিক অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার প্রতিষ্ঠানজুড়ে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। এর প্রভাব নিউজরুমসহ বিভিন্ন বিভাগে পড়ছে।

টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয় অবস্থান ও রিফর্ম ইউকের সঙ্গে পত্রিকাটির সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পত্রিকাটির কিছু কর্মীর অভিযোগ, ফারাজের দল রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক সংবাদ প্রকাশের জন্য টেলিগ্রাফকে ব্যবহার করেছে। রিফর্ম ইউকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার আগেই বিতর্কিত খবরের নিজেদের পছন্দের সংস্করণ টেলিগ্রাফে প্রকাশের ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

ফারাজের আগের কয়েকটি কলামে পাঠকদের সরাসরি রিফর্ম ইউকেকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এমনকি ব্রিটেনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার জন্য এটিকে শেষ সুযোগ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। দলটির পক্ষে বিপুল অঙ্কের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ীদের অনুদানের পক্ষেও কলাম লিখেছিলেন ফারাজ।

তার বিদায়ের পর টেলিগ্রাফের রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন মালিকপক্ষ পত্রিকাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। তারা এটিকে মধ্য-ডানপন্থী ও বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এদিকে ফারাজের কলাম বন্ধের খবরে ব্রিটেনের ডানপন্থী মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। টকটিভির উপস্থাপক ও সাবেক ব্রেক্সিট পার্টির রাজনীতিক অ্যালেক্স ফিলিপস এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিগ্রাফের একজন প্রতিনিধি ব্যক্তিগত চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটেন থেকে ইইউ নাগরিকদের বহিষ্কার নিয়ে নতুন মোড়ঃ সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

যুক্তরাজ্যে কাউন্সিল ট্যাক্স দ্বিগুণের প্রস্তাবঃ ধনীরা নয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যবিত্ত

নিউজ ডেস্ক

ফর্মুলা ৪ জিতে বাংলাদেশের মোটরস্পোর্টে ইতিহাস গড়লেন আরহাম রহমান