TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে রাতের শিফট শেষে গাড়ির ভেতর পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ব্রিটেনে রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন শেষে গাড়ির ভেতর থেকে এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর রোববার সকাল ৮টার দিকে ইংল্যান্ডের ওয়েকফিল্ডের ইস্টমুর এলাকার স্ট্যানলি রোডে পার্ক করা একটি গাড়ি থেকে হামজা রিয়াজ নামের ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ওয়েকফিল্ড ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি ড্যাজলিং ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটি সাবেক অ্যালবিয়ন ইন নামের একটি স্থাপনার বাইরে পার্ক করা ছিল। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে স্থাপনাটি নিলামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে হামজা রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কমিউনিটির কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শীত থেকে বাঁচতে হামজা নিজের গাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ইঞ্জিন ও হিটার চালু রেখেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

গাড়ির ভেতরে ইঞ্জিন চালু রেখে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ঘটনায় বিষতাত্ত্বিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থী কমিউনিটির সদস্যরা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, রাতের শিফটে দায়িত্ব পালনকারী একাকী কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ফোন করে খোঁজ নেওয়ার নিয়ম থাকলে কর্মী সাড়া না দিলে প্রতিষ্ঠানের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

সকাল ৮টার পর হামজার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা থেকে রাতের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। তবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নির্ধারিত সময় পরপর যোগাযোগের ব্যবস্থা রেখেছিল কি না, কিংবা হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি ড্যাজলিং ডন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে অনেক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বিভিন্ন সাব-কন্ট্রাক্টরের অধীনে স্বল্প বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের বিশ্রাম, নিরাপত্তা ও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

হামজার মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের কর্মপরিবেশ, আর্থিক চাপ এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পড়াশোনার ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে অনেক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামজার জানাজা ব্র্যাডফোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মরদেহ পাকিস্তানে পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি স্থানীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত না হওয়ায় হামজাকে চিনতেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বিস্ময় ও শোক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ডেইলি ড্যাজলিং ডন।

এদিকে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একাকী কর্মীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা উচিত, এমনকি দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি ড্যাজলিং ডন

এমকে

আরো পড়ুন

পিছিয়ে গেলো ভারত-যুক্তরাজ্য বানিজ্য চুক্তি

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে ৪০ মাইল গতির অবৈধ ই-বাইক ধ্বংস, তল্লাশিতে গ্রেপ্তার ৩ অভিবাসী

আইনি ভিত্তি ও সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়া যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্যঃ কিয়ার স্টারমার