লন্ডনের মেয়র সাদিক খান হিথ্রো বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের পরিবর্তে পূর্ব লন্ডনের স্ট্র্যাটফোর্ড থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরাসরি আন্তর্জাতিক রেলসেবা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেশনকে প্রকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে পরিণত করা হলে পূর্ব লন্ডনের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সিটি এএম-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাদিক খান বলেন, আন্তর্জাতিক রেলসেবা বাড়ানোর পক্ষে ব্রিটিশদের সমর্থন বিমানবন্দর সম্প্রসারণের তুলনায় তিন গুণ বেশি। তার মতে, স্ট্র্যাটফোর্ডকে ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মাধ্যমে লন্ডনের এই অঞ্চলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় প্রবেশদ্বারে পরিণত করা সম্ভব।
সাদিক খান জানান, স্ট্র্যাটফোর্ড ইতোমধ্যে লন্ডনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্ট্র্যাটফোর্ড স্টেশনে আন্ডারগ্রাউন্ড, ওভারগ্রাউন্ড, ডিএলআর, এলিজাবেথ লাইন এবং জাতীয় রেলসেবা রয়েছে। কাছেই স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে বর্তমানে সেন্ট প্যানক্রাস ও কেন্টের মধ্যে দ্রুতগতির রেলসেবা চললেও সেখানে কোনো আন্তর্জাতিক রেলসেবা নেই।
তার দাবি, স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেশনকে আন্তর্জাতিক যাত্রার জন্য তৈরি করার সময় পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির আন্তর্জাতিক অংশ ব্যবহার না হওয়ায় পাসপোর্ট ডেস্কগুলো অব্যবহৃত এবং যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আগমন হলও খালি পড়ে আছে।
সাদিক খান বলেন, স্ট্র্যাটফোর্ডে আন্তর্জাতিক রেলসেবা চালু হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে শুধু কুইন এলিজাবেথ অলিম্পিক পার্ক এলাকায় আরও ১১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে এবং বছরে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হতে পারে। বৃহত্তর পূর্ব লন্ডনে ২০৫০ সালের মধ্যে ২ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্ট্র্যাটফোর্ড যুক্তরাজ্যের উদ্ভাবন করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা লন্ডনকে ক্যামব্রিজসহ বিজ্ঞান ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে। একই সঙ্গে থেমস মোহনার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে অঞ্চলটির সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক শিল্পেও বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
হিথ্রো বিমানবন্দরের তৃতীয় রানওয়ে নির্মাণের বিরোধিতা করে সাদিক খান বলেন, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ লন্ডনের জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তার দাবি, হিথ্রোতে ফ্লাইট ৫৮ শতাংশ বাড়লে বছরে আরও প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ গাড়ি চলাচল তৈরি হতে পারে, যা লন্ডনের সড়কে যানজট ও শব্দদূষণ বাড়াবে।
অন্যদিকে, একই দূরত্বে বিমানের পরিবর্তে উচ্চগতির রেল ব্যবহার করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক রেলসেবার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে এবং লন্ডনের কিছু আন্তর্জাতিক রেলপথে এক বছরে যাত্রীসংখ্যা ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদিক খান বলেন, স্ট্র্যাটফোর্ডকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করা হলে শুধু পূর্ব লন্ডন নয়, পুরো যুক্তরাজ্যই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তার দাবি, স্ট্র্যাটফোর্ড থেকে আন্তর্জাতিক রেলসেবা চালু হলে যুক্তরাজ্যজুড়ে পর্যটকদের অতিরিক্ত ব্যয় থেকে প্রায় ১৩০ কোটি পাউন্ড অর্থনৈতিক সুবিধা আসতে পারে।
তিনি জানান, তার দল দীর্ঘদিন ধরে স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনালকে আন্তর্জাতিক রেলসেবার জন্য ব্যবহারের বিষয়ে প্রচার চালিয়ে আসছে। গত কয়েক মাসে নতুন সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সূত্রঃ সিটি এএম
এমকে

