15.7 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভারতের তীব্র আপত্তির মধ্যেই চীন-পাকিস্তানের যৌথ ‘সীমান্ত কমিশন’ চালু

চীনের সঙ্গে যৌথ ‘সীমান্ত কমিশনচালু করেছে পাকিস্তান। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে এই কমিশন কাজ করবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে উদ্যোগটির তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারত।
বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যৌথ সীমান্ত কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীনবিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোর আওতায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করবে।
তবে কমিশন চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর বিরোধিতা করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত এ বিষয়ে তার অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করেছে।
জয়সোয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এমন কোনো সীমান্ত নেই, যেটিকে ভারত আইনগতভাবে স্বীকৃত বলে মনে করে। তিনি কমিশনটিকে ‘আইনি ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করে ভারতের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যানের কথা জানান।
চীন ও পাকিস্তানের যে সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে এই কমিশন কাজ করবে, সেটিকে ভারত তার কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ হিসেবে দাবি করে। ফলে কমিশনের কার্যক্রমকে ভারতের ভূখণ্ড-সংক্রান্ত দাবির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
ভারতের আপত্তির অন্যতম কারণ ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি। ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে ওই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত কখনোই ১৯৬৩ সালের তথাকথিত চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে এটিকে বেআইনি ও বাতিল বলে দাবি করে আসছে।
চীন-পাকিস্তানের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মাত্র চার দিন পর দুই দেশের সীমান্ত ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার পাশাপাশি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরপরই পাকিস্তান চীনের সঙ্গে যৌথ সীমান্ত কমিশনের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়। ফলে একই অঞ্চলের সীমান্ত ও ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের অবস্থানের পার্থক্য আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
সূত্রঃ ডন\ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এম.কে

আরো পড়ুন

সন্তান নিলে কর্মীদের অর্থ দেবে এ প্রতিষ্ঠান

প্রথমবারের মতো ‘সত্যিকারের হুমকি’ অনুভব করছে ইসরাইল

ল্যাবে তৈরি মাংস নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ইতালি