ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক ভয়াবহ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক রাস্তার বিক্রেতাকে হত্যা করে তার অণ্ডকোষ (টেস্টিকল বা পুরুষের বীজকোষ) কেটে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনা ভারতের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে। যেখানে সামাজিক মাধ্যমের প্রতারণামূলক ভিডিও দেখে তরুণরা নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভোপালের ইকবাল ময়দানের কাছে কলম ও চাবির চেইন বিক্রি করা রেহান নামের কিশোরকে ৬ আগস্ট প্রলুব্ধ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই নাবালক তাকে মাত্র ১০০ রুপি দিয়ে এক মারামারিতে সাহায্য করার অজুহাতে নিচু লেকের কাছে খাটলাপুরায় নিয়ে যায়। সেখানে চারজন তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। প্রধান অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ছাত্র জোহেব খান ভিডিও কলে নির্দেশ দিচ্ছিল। খান নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে সহযোগীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং অনলাইনে সাদা এপ্রোন, স্টেথোস্কোপ ও থার্মোমিটার কিনে ব্যবহার করেছিল।
হত্যার পর দলটি রেহানের অণ্ডকোষ বরফে প্যাক করে দুই দিন রেখে ক্রেতা খোঁজার চেষ্টা করে। তারা বিশ্বাস করছিল, উপসাগরীয় দেশের কালোবাজারে এগুলো প্রায় ১.২ কোটি রুপি (প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড) দামে বিক্রি করা যাবে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক প্রতারণামূলক ভিডিও দেখেই তারা এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। বিক্রি ব্যর্থ হলে জোহেব খান নির্দেশ দেয় আলাদা আলাদা লেকে ফেলে দিতে।
১০ আগস্ট ধোবি ঘাটের কাছে নিচু লেক থেকে রেহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মা তাকে নিখোঁজ বলে অভিযোগ করার পাঁচ দিন পর একটি ট্যাটু থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পোস্টমর্টেম পরীক্ষায় মারাত্মক আঘাত এবং অণ্ডকোষ কেটে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
পুলিশ জোহেব খান ও ১৮ বছর বয়সী আমির কোরেশিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনজন নাবালককে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। অণ্ডকোষ খুঁজতে ডুবুরি নামানো হয়েছে, তবে ভোপালের সহকারী পুলিশ কমিশনার সন্তোষ প্যাটেল স্বীকার করেছেন, খোঁজ কঠিন হবে এবং সন্দেহভাজনদের তথ্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাং কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পুলিশ এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এখনো কোনো সংগঠিত পাচার চক্রের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। পুলিশ এটাও খতিয়ে দেখছে, অণ্ডকোষের দাম পাওয়ার কথা বলে কোনো রিল সত্যিই ছিল কি না।
এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে। রাস্তার বিক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই এখন ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমের প্রতারণামূলক কনটেন্ট দেখে তরুণরা এমন নির্মম অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ সময়মতো হস্তক্ষেপ করতে পারছে না। ভোপালের মতো শহরেও এক কিশোরকে এভাবে হত্যা করে অণ্ডকোষ কেটে নেওয়া সম্ভব হওয়া প্রমাণ করে, দেশে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা কতটা অরক্ষিত।
সূত্রঃ এনডিটিভি
এম.কে

