12.7 C
London
August 23, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘মক্কার পথে পা বাড়ানোর আগেই ভেঙে গেল স্বপ্নঃ অটোরিকশাচালক বলে সুমনকে ওসমানী হতে ফেরত!’

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এক ওমরাহ যাত্রীকে ইমিগ্রেশন না করেই ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে—ওই যাত্রী পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হওয়ায় তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

 

ভুক্তভোগী যুবকের নাম সুমন আহমদ। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে। গত ১৯ আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান তিনি।

সুমনের অভিযোগ, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্যরা তার পেশা ও পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তাকে নানাভাবে অপমান করা হয় এবং পাসপোর্টে ক্ষতিকর সিল মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান।

সুমনের দাবি, নিজের আর্থিক সামর্থ্যে নয়, একজন আমেরিকাপ্রবাসী তার ওমরাহ পালনের ব্যয়ভার বহন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তার কাছে ছিল। ফলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি হতাশ ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ‘সিএনজি অটোরিকশাচালক হওয়ায় ওমরাহ করতে দেওয়া হয়নি’—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনির জানিয়েছেন, কাউকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে সুমনকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন যে পোশাকে বিমানবন্দরে এসেছিলেন, তা দেখে তাকে বেড়াতে যাওয়ার যাত্রীর মতো মনে হচ্ছিল। তার পোশাকে বা সঙ্গে ওমরাহ যাত্রীর কোনো দৃশ্যমান আলামত বা প্রতীক না থাকায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সন্দেহ তৈরি হয়।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ সিলেট অঞ্চলের তরুণ বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ওসমানী বিমানবন্দরে সন্দেহজনক যাত্রীদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনিরের দাবি, অনেক তরুণ ওমরাহ ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পর সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মানবপাচার ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঠেকাতেই বিমানবন্দরে এই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সুমনের ঘটনায় একদিকে যেমন অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার ঠেকাতে বিমানবন্দরের সতর্কতার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি একজন সাধারণ অটোরিকশাচালকের ধর্মীয় সফর, পেশাগত পরিচয় এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য—দুই পক্ষের বক্তব্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হওয়া এখন জরুরি।

ঘটনার পর সুমনকে নতুন করে ওমরাহ পালনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে ইতোমধ্যে যে মানসিক আঘাতের কথা তিনি জানিয়েছেন, সেটিই এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হয়ে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে এখন ভালো নেই বাংলাদেশিরা

পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি, ফিরল ‘ইসরায়েল ব্যতীত’

গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক, রুল হাইকোর্টের