TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মাকড়সার কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে যুক্তরাজ্যে, গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি

ইংল্যান্ডে মাকড়সার কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা গত এক দশকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সংগৃহীত স্বাস্থ্যসেবার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাকড়সার কামড়ের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় একশ জন রোগী। এক দশক আগে, অর্থাৎ ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল অর্ধেকেরও কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির মাকড়সার বিস্তার, যা সাধারণভাবে ‘ফলস উইডো’ নামে পরিচিত।

পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাকড়সা সাধারণত আক্রমণাত্মক নয় এবং মানুষের ওপর সরাসরি হামলা করে না। তবে বিরল ক্ষেত্রে কামড় দিলে ব্যথা, ফোলাভাব এবং সাময়িক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এখন পর্যন্ত এ প্রজাতির কারণে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাকড়সার উৎপত্তি ইউরোপের কিছু দ্বীপাঞ্চলে হলেও এটি অনেক আগেই ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এরা সাধারণত ঘরবাড়ির আশপাশে থাকে এবং রান্নাঘর বা সংরক্ষিত জায়গায় জাল তৈরি করতে পারে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাকড়সার কামড়ের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে জরুরি বিভাগে আসা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বৃদ্ধির পেছনে শুধু মাকড়সার বিস্তারই নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ নির্ণয়ের উন্নতিও একটি কারণ হতে পারে। ফলে অনেকেই সামান্য উপসর্গ নিয়েও হাসপাতালে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, গণমাধ্যমে এ ধরনের মাকড়সা নিয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কারণে মানুষ অনেক সময় ভুলভাবে কামড় শনাক্ত করে ফেলছে, যা পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাকড়সার কামড়ে সাধারণত ত্বকে ছোট ছিদ্র, ব্যথা, লালচে ভাব এবং ফোলাভাব দেখা দেয়। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে বরফ কাপড়ে মুড়ে আক্রান্ত স্থানে দেওয়া, ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ এবং আক্রান্ত অঙ্গ উঁচু করে রাখা উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কামড় সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যেই উপসর্গ কমে আসে। সংস্থাগুলো বলছে, এই প্রজাতির মাকড়সা সাধারণত মানুষের থেকে দূরে থাকতে চায় এবং আক্রমণ করে না।

তবে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের মাধ্যমে মাঝে মাঝে ভিন্ন ধরনের মাকড়সা দেশে প্রবেশ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সন্দেহজনক ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মাকড়সার কামড় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বড় কোনো জনস্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং নজরদারি ও সচেতনতার বিষয়।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে এক বছরে অবৈধ কর্মসংস্থানবিরোধী অভিযান ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধিঃ গ্রেপ্তার ২ হাজারের বেশি

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার জনগণের উদ্দেশ্যে ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ

শরণার্থী হোটেল ঘিরে উত্তেজনা, ক্রলি হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু