মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান এই সিদ্ধান্তকে “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্যকে সম্ভাব্য পরিণতির জন্য দায়ী থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের “অবৈধ সামরিক হামলা” পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের তারা তীব্র নিন্দা জানায়। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা আগ্রাসন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধে অংশগ্রহণের শামিল হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে যেকোনোভাবে অংশ নেওয়া পক্ষকে তাদের সিদ্ধান্তের পরিণতির দায় বহন করতে হবে।
খবরে বলা হয়েছে, নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার পূর্বসূরির নীতি বহাল রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্লুচেস্টারশায়ারের RAF Fairford বিমানঘাঁটি এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জের Diego Garcia যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা ও অন্যান্য সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। এর আগে মার্কিন সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকে (COBRA) এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বক্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ভেতর কিংবা বিদেশ থেকে আসা যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রয়্যাল নেভি, ব্রিটিশ আর্মি এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের উন্নত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি নিজেদের জনগণ, জাতীয় স্বার্থ এবং মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে কাজ করছে। একই সঙ্গে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোর নীতিও বহাল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটির ব্যবহার নিয়ে তেহরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কঠোর বার্তা দিলেও উত্তেজনা কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

