যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন–এর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইনে ক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতির কারণে বর্ণবাদ ও নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তার এই বক্তব্যের পর বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
ব্রিজেট ফিলিপসনের ভাষ্য, খুব বেশি দিন আগেও যেসব আচরণ ও মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতো, এখন সেগুলো সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। তার মতে, নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্ণবাদ—উভয় ক্ষেত্রেই এই অবনতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কারপন্থী দলের নেতা রবার্ট জেনরিক এবং রক্ষণশীল দলের বিচারবিষয়ক মুখপাত্র নিক টিমোথি সাম্প্রতিক সময়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা বর্ণবিদ্বেষকে উসকে দেয়। বিশেষ করে ট্রাফালগার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত একটি মুসলিম গণ-নামাজকে নিক টিমোথি “আধিপত্য ও বিভাজনের প্রকাশ” হিসেবে বর্ণনা করায় তিনি এটিকে বর্ণবাদী মন্তব্য বলে আখ্যায়িত করেন।
ফিলিপসনের দাবি, অন্য কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে এমন ভাষা ব্যবহার করা হতো না বলেই তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আলাদা করে এভাবে চিহ্নিত করা সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে নিক টিমোথি এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কোন জাতিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, তা যদি প্রমাণ করা যায়, তবেই তাকে বর্ণবাদী বলা উচিত। অন্যথায়, মন্ত্রীর এমন অভিযোগ তাকে “বোকা বলেই শোনাবে।” একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জনসমক্ষে মুসলমানদের গণ-নামাজকে তিনি এখনও “আধিপত্যের প্রকাশ” বলেই মনে করেন।
নিক টিমোথি আরও বলেন, সরকার যে ইসলামবিদ্বেষের একটি অ-আইনগত সংজ্ঞা প্রস্তাব করছে, তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার যুক্তি, জাতিগত পরিচয় এবং ধর্মীয় বিশ্বাস এক বিষয় নয়; ধর্মীয় বিশ্বাস অন্য যেকোনো ধারণার মতোই সমালোচনা, প্রশ্ন ও ব্যঙ্গের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।
এদিকে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশের ব্যর্থতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিজেট ফিলিপসন। তিনি বলেন, এই ইস্যুতে যুক্তরাজ্য এখন সবচেয়ে সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

