TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লিটন আহমেদের ১৮ বছরের কারাদণ্ড

ওয়েলসের কার্ডিফের বিউটাউন এলাকার ৪৭ বছর বয়সী লিটন আহমেদকে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দায়ে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কার্ডিফ ক্রাউন কোর্টে বিচার শেষে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২৬ আগস্ট মেরথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিটন আহমেদ একটি মেয়েকে স্পর্শের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের ছয়টি অভিযোগ এবং একইভাবে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার একটি অভিযোগের মুখোমুখি হন। তিনি আদালতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে বিচার শেষে জুরি তাকে অভিযোগগুলোতে দোষী সাব্যস্ত করে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত তাকে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা ঘোষণার পাশাপাশি তার ওপর আরও কয়েকটি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, লিটন আহমেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশও জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি রয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা কনস্টেবল স্টিভেন টেলর ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ সামনে নিয়ে আসা এবং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার কারণেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অত্যন্ত মানসিকভাবে কঠিন ও বেদনাদায়ক সময় ছিল। আদালতের রায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা যেন মনে করেন যে তাদের কথা শোনা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা হবে—এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

লিটন আহমেদের এই মামলাটি ওয়েলসে শিশুদের নিরাপত্তা ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বিষয়টিও সামনে এনেছে। আদালতের রায়ের পাশাপাশি যৌন অপরাধীদের নিবন্ধন এবং যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশের মতো ব্যবস্থা তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও বিধিনিষেধ নিশ্চিত করবে।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ আরও জানিয়েছে, কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে প্রস্তুত না থাকলে তাকে নীরবে কষ্ট সহ্য করতে হবে না। ভুক্তভোগীদের জন্য সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সহায়তা ও পরামর্শ সেবা রয়েছে।

সূত্রঃ দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশের মূল প্রতিবেদন\ দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

বেতন থমকে, বেকারত্ব ঊর্ধ্বমুখীঃ অনিশ্চয়তায় ব্রিটেনের শ্রমবাজার

আবারো ‘বিস্ট ফ্রম দ্য ইস্ট’ -এর সতর্কতা যুক্তরাজ্যে

অনলাইন ডেস্ক

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচাঃ HMO লাইসেন্স

নিউজ ডেস্ক