TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ার ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বিমানঘাঁটিকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর ফলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইআরজিসির প্রকাশিত ‘ঘোষণা নং–৪৬’-এ বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো দেশের ভূখণ্ড, সামরিক ঘাঁটি বা অবকাঠামো ব্যবহার করা হলে, সেই ঘাঁটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দূরত্ব কোনো বাধা হবে না এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলায় ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে জবাব দেওয়া হবে।

এই হুমকি এমন সময় এলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এমন দাবিও সামনে এসেছে যে, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ ল্যান্সার দূরপাল্লার বোমারু বিমান পরিচালনা করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বাধীন নতুন ব্রিটিশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি বহাল রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে অবস্থিত কোনো সামরিক স্থাপনাকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়, তবে তা শুধু যুক্তরাজ্যের জন্য নয়, বরং পুরো ন্যাটো জোটের জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলি ও পশ্চিমা বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে এমন দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। তবে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে আসন্ন হামলার কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা বা নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আইআরজিসির এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ইউরোপীয় নিরাপত্তা, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে টমি রবিনসনের র‍্যালি নিয়ন্ত্রণে ১৬০০ পুলিশ, পাল্টা বিক্ষোভে ২ হাজার মানুষ

ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টায় ইউনূস ও দুদকঃ টিউলিপ

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নিলেন বরিস জনসন

নিউজ ডেস্ক