TV3 BANGLA
আমেরিকাযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তাঃ হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদেরও ছাড় নয়

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালিতে তেল চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সহায়তা করেনি, যুদ্ধ ও চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় করা অর্থ ফেরত নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সহায়তা করেনি, তাদের এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত এবং তা দিতে হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ সচল রাখা ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অন্য দেশগুলোর স্বার্থে এই দায়িত্ব পালন করে আসছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়েও ট্রাম্পের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে যুক্তরাজ্য অনাগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পর যুক্তরাজ্যের অবস্থান ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড সফরের সময়ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ন্যাটোর অবস্থানের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ডাবলিনে ডিয়ারফিল্ডে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে ন্যাটো আগ্রহী না হওয়ায় তিনি ‘খুবই হতাশ’।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি থেকে কোনো তেল নেয় না এবং তাদের ওই তেলের প্রয়োজনও নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি তেল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের কাছে হরমুজ প্রণালিতে সহায়তার অনুরোধ করা হলেও তারা এতে জড়াতে চায়নি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দেশ প্রণালিটি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করলেও এর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য ন্যাটোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মতবিরোধকেও সামনে এনেছে। এর আগে তিনি ন্যাটোর মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং জোটটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার হাতেই থাকবে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান দ্রুত ও মরিয়া হয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ২৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা, ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ভিসা নীতির পরিবর্তনে কেয়ার খাতে সংকটের আশঙ্কা

অন্তঃসত্ত্বা সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ টিউলিপের বিরুদ্ধেঃ দ্য টেলিগ্রাফ

যুক্তরাজ্যে দ্রুতগতিতে বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা