TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসৈকতে শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাংলাদেশি পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সমুদ্রসৈকতে এক শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে স্রোতের টানে তলিয়ে বাংলাদেশি পরিবারের দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী ও এক কিশোরী। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে নিশ্চিত করেছে এসেক্স পুলিশ।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কোলচেস্টারের কাছে ওয়েস্ট মার্সিয়ার সিভিউ অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে কয়েকজন পানিতে বিপদে পড়েছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এসেক্স পুলিশ, এইচএম কোস্টগার্ড, এসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস এবং রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ওয়েস্ট মার্সিয়া আরএনএলআইয়ের ইনশোর লাইফবোট, ক্ল্যাকটন-অন-সি আরএনএলআইয়ের দুটি লাইফবোট এবং কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে সমুদ্র থেকে তোলা হলেও চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী ও এক কিশোরীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার এসেক্স পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে জানানো হয়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সকলে বাংলাদেশি পরিবারের সদস্য। তারা সমুদ্রে বিপদে পড়া এক শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রবল স্রোতের কবলে পড়েন। একপর্যায়ে পরিবারের একাধিক সদস্য পানিতে তলিয়ে যান।

জানা গেছে, নিহত পরিবারের সঙ্গে সিলেটের একটি পরিচিত পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে। ডা. মনসুর আহমেদ, যিনি সিলেটের মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির নেতা মরহুম মখন মিয়ার ছেলে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি সিলেটেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পর ওয়েস্ট মার্সিয়া কোস্টগার্ড রেসকিউ টিম এক বিবৃতিতে জানায়, “ওয়েস্ট মার্সিয়া সমুদ্রসৈকতে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা সাড়া দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।” তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে সাধারণ মানুষকে সিভিউ অ্যাভিনিউ ও সংলগ্ন সমুদ্রসৈকত এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।

এসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। ঘটনার সময় পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং সমুদ্রসৈকতে জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পুরো ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবল স্রোত ও জোয়ারের সময় সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কৃত্রিম অগ্ন্যাশয় দিবে এনএইচএস

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ‘রিটার্ন হাব’ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক

সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর নেই