দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতালে সাবেক এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে দুই শতাধিক রোগীর চিকিৎসা নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের কারণে তিনজন রোগীর অকালমৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এবং আরও অন্তত ১২ জন স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের তদন্তে সাবেক শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভেরোনিকা ভার্নির চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, তিনি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এমন চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত চিকিৎসার পরিবর্তে বিকল্প পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন। কিছু রোগীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯-এর টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, এমনকি সরিষার তেল ব্যবহার এড়াতেও বলা হয়েছিল।
ভেরোনিকা ভার্নি ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ফুসফুসের একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা ২৮টি রোগীর নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব, বিশেষজ্ঞ দলের কাছে রোগী পাঠাতে ব্যর্থতা এবং ভুল চিকিৎসা সিদ্ধান্তের কারণে অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনজন রোগী এমন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন যা তাদের আয়ু বাড়াতে পারত। আরও ১২ জন স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হয়েছেন এবং সাতজন এমন চিকিৎসা পাননি যা তাদের জীবনমান উন্নত করতে পারত। এক রোগীর ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার অবনতিকে চিকিৎসাগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা না করে কেবল খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সাল থেকে ভেরোনিকা ভার্নির অধীনে চিকিৎসা নেওয়া সব রোগীর নথি পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় আরও ২০৩ জন রোগীর চিকিৎসা রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে। হাসপাতাল জানিয়েছে, এই পর্যালোচনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হবে এবং শেষ হতে ১২ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের অধীন চিকিৎসা ট্রাইব্যুনাল ভেরোনিকা ভার্নিকে অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া থেকে সাময়িকভাবে বিরত রেখেছে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাকে সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতালে রোগী দেখার দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতাল ট্রাস্টের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রিচার্ড জেনিংস বলেছেন, রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের দেওয়া ১৯টি সুপারিশের সবগুলোই তারা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রোগী ও তাদের পরিবারের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আইনজীবীরা বলছেন, এই তদন্ত ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে। তাদের দাবি, বহু বছর আগে থেকেই চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা ও অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ছিল, কিন্তু সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারগুলোর মতে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই অবহেলা কেন এত দিন চলতে দেওয়া হলো এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

