20.4 C
London
September 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অজুতে পানি কম ব্যবহারের পরামর্শঃ উঠেছে সমালোচনার ঝড়

যুক্তরাজ্যে পানি অপচয় কমাতে মুসলিমদের অজুর সময় কম পানি ব্যবহার এবং এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে পানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির পানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট। সংস্থাটির অর্থায়নে পরিচালিত ‘ওয়াটার এফিসিয়েন্সি ইন ফেইথ অ্যান্ড ডাইভার্স কমিউনিটিস’ প্রকল্পের আওতায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাউথ স্টাফোর্ডশায়ার ওয়াটার, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিনিটি ফ্যাকাল্টি এবং ক্যামব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদের যৌথ উদ্যোগে এক লিটার পানি দিয়ে অজু করার একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়।

অফওয়াটের তথ্য অনুযায়ী, দিনে পাঁচবার অজু করার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে চলমান পানির কল ব্যবহার করলে একজন মানুষের দৈনিক প্রায় ১২ লিটার পানি খরচ হতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ব্যবহার করে অজু করলে এই ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ক্যামব্রিজের পরীক্ষামূলক প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৯০০ লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পানি সাশ্রয়ের এই উদ্যোগ শুধু অজুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এশীয় সম্প্রদায়ের রান্নার অভ্যাসেও পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, করদাতাদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে পরিচালিত একটি উদ্যোগে ২০১৪ সালের মাস্টারশেফ বিজয়ী রন্ধনশিল্পী পিং কুম্বস চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

তার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী, চাল পাঁচ থেকে সাতবার ধোয়ার প্রচলিত অভ্যাসের পরিবর্তে মাত্র দুবার ধুলেই যথেষ্ট হতে পারে। পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের উপায় বোঝাতে এ বিষয়ে একটি ইউটিউব ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

তবে সরকারি সংস্থার এমন উদ্যোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, পানি সাশ্রয়ের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাস পরিবর্তনের ওপর চাপানোর আগে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বড় ধরনের অপচয় বন্ধে কেন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

গ্রিনপিস যুক্তরাজ্যের গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নষ্ট ও ফুটো পাইপলাইনের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৮৭ কোটি লিটার পানি অপচয় হচ্ছে। এই বিপুল অপচয়ের তুলনায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে অজু বা রান্নায় পানি কমানোর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের শ্যাডো ক্যাবিনেট অফিস মিনিস্টার মাইক উড এই উদ্যোগের সমালোচনা করে এটিকে করদাতাদের অর্থের অপচয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পানি অপচয় কমানো অবশ্যই ভালো উদ্যোগ, কিন্তু মানুষের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করা অস্বাভাবিক।

সমালোচনার জবাবে অফওয়াটের এক মুখপাত্র বলেন, এই উদ্যোগ কাউকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করার জন্য নেওয়া হয়নি। ধর্মীয় রীতিতে হস্তক্ষেপ করাও এর উদ্দেশ্য নয়। সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ পানি আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই ছিল প্রকল্পটির লক্ষ্য।

অফওয়াট জানিয়েছে, ক্যামব্রিজে পরিচালিত পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিলেই শেষ হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর নতুন করে এমন কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করা হয়নি।

তবে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে পানি ব্যবস্থাপনা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে পানির সংকট ও অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারি উদ্যোগের সীমা কোথায় হওয়া উচিত—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই\ দ্য টেলিগ্রাফ/ গ্রিনপিস যুক্তরাজ্য ও অফওয়াট

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রেক্সিটের এক দশকঃ নতুন জরিপে ৫৮% ব্রিটিশের ইইউতে ফেরার পক্ষে রায়

বরিস জনসনকেই আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান জনগণ!

যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে আমাজনকে