TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের পক্ষে দাঁড়ালেন অ্যাঞ্জেলা রেইনার

যুক্তরাজ্যের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান আবাসন, কমিউনিটিজ ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক সচিব অ্যাঞ্জেলা রেইনার সামাজিক সেবা খাতের কর্মীদের জন্য সেক্টরভিত্তিক ভিসা চালুর দাবিতে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসনের ‘ফেয়ার ভিসা’ প্রচারণাকে সমর্থন করে বলেছেন, অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার ভিত্তি হতে হবে ন্যায্যতা, যাতে নিয়ম মেনে যুক্তরাজ্যে কাজ করা অভিবাসী কর্মীরা নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

লেবার সরকারের কর্মসংস্থান অধিকার আইন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেইনার বলেন, এই আইন কর্মক্ষেত্রে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ। তবে শুধু কর্মসংস্থান আইন নয়, অভিবাসন ব্যবস্থাতেও একই ধরনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তার ভাষায়, যারা নিয়ম মেনে যুক্তরাজ্যে এসে সমাজে অবদান রাখছেন, তাদের এমন একটি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারা উচিত, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, ন্যায্যতা মানে নিয়ম ভেঙে ফেলা নয়; বরং সঠিকভাবে সেই নিয়ম কার্যকর করা।

অ্যাঞ্জেলা রেইনার বর্তমান নিয়োগকর্তানির্ভর স্পনসরশিপভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এই ব্যবস্থা অনেক অভিবাসী কেয়ার কর্মীকে শোষণের ঝুঁকিতে ফেলে। তার মতে, সমস্যাটি শুধু কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যারা সামাজিক সেবা গ্রহণ করেন, তাদের নিরাপত্তা ও সেবার মানের সঙ্গেও এটি সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, প্রতিটি ভিসার পেছনে একজন কেয়ার কর্মী রয়েছেন এবং প্রতিটি কেয়ার কর্মীর সামনে রয়েছেন একজন অসহায় মানুষ, যিনি তার সেবার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যদি সেই কর্মী নিজেই নিরাপত্তাহীন ও অনিরাপদ অবস্থায় থাকেন, তাহলে পুরো সামাজিক সেবা ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়ে।

রেইনার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো মানের কর্মসংস্থান, ন্যায্য বেতন চুক্তি এবং কর্মীদের অধিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, এতে একদিকে যেমন কেয়ার কর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নত হবে, অন্যদিকে প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য আরও উন্নত মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে ইউনিসনের ‘ফেয়ার ভিসা’ প্রচারণার অন্যতম প্রধান দাবি হলো বর্তমান নিয়োগকর্তানির্ভর ভিসা ব্যবস্থা বাতিল করে সামাজিক সেবা খাতের জন্য সেক্টরভিত্তিক ভিসা চালু করা। এ ধরনের ভিসা চালু হলে কেয়ার কর্মীরা তাদের অভিবাসন মর্যাদা হারানোর ভয় ছাড়াই এক নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অন্য নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে কাজ পরিবর্তন করতে পারবেন।

ইউনিসনের মতে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মীদের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, দক্ষ কর্মীদের চাকরিতে ধরে রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে থাকা যুক্তরাজ্যের সামাজিক সেবা খাত আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের অধিকার, শ্রমবাজারে ন্যায্যতা এবং সামাজিক সেবা খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই অ্যাঞ্জেলা রেইনারের এই অবস্থান নতুন করে বিষয়টিকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি সেক্টরভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা চালুর দিকে এগোয়, তবে তা যুক্তরাজ্যের কেয়ার খাতে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে তরুণদের ভাতা কমানোর পরিকল্পনা ঘিরে লেবারে বিদ্রোহের আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যে কিশোরের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল হ্যালিফ্যাক্স, বিস্তারিত জানাতে অনীহা

বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য পুলিশের তদন্ত শুরু