যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, দেশের শুধু দরিদ্র এলাকাগুলোর ওপর আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের আবাসনের চাপ দেওয়া উচিত নয়; বরং ধনী এলাকাসহ দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়কেই এই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। তার এই মন্তব্যের পর সরকার, বিরোধী দল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম পিডিংটনের কাছে একটি পরিত্যক্ত সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় এক হাজার দুইশ আশ্রয়প্রার্থী রাখার পরিকল্পনাকে ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। মাত্র চারশ মানুষের জনসংখ্যার ওই গ্রামের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এত বড় আশ্রয়কেন্দ্র তাদের এলাকার অবকাঠামো ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, “এমন পরিস্থিতি হতে পারে না যে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকাগুলোই শুধু আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের পুরো বোঝা বহন করবে। দেশের সব অংশকেই নিজেদের ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি একই সঙ্গে পিডিংটনের বাসিন্দাদের উদ্বেগকেও গুরুত্ব দিয়ে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্যবিত্ত ও ধনী এলাকাগুলোতে আরও বেশি অবৈধ অভিবাসী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তার দাবি, এটি যুক্তরাজ্যের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর “প্রতিহিংসাপরায়ণ শাস্তি” চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী আনা টারলি অবশ্য সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্ল্যাকপুলের মতো অনেক দরিদ্র এলাকা ইতোমধ্যেই তাদের “ন্যায্য অংশ” বহন করেছে। এখন লক্ষ্য হলো, কোনো এলাকাকে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্ষমতা ও অবকাঠামোর ভিত্তিতে আশ্রয়প্রার্থীদের বণ্টন করা।
সরকারের এই পরিকল্পনা মূলত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল হোটেল ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডে আরও ১৩টি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে এবং এসেক্সের আরএএফ ওয়েদারসফিল্ড ও ইস্ট সাসেক্সের ক্রোবরো প্রশিক্ষণ শিবিরসহ কয়েকটি পরিত্যক্ত সামরিক স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অক্সফোর্ডশায়ার, নর্থ ইয়র্কশায়ার ও সাফোকের আরও কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে মোট প্রায় তিন হাজার সাতশ পঞ্চাশ আশ্রয়প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের সংখ্যা গত কয়েক বছরে অভিবাসন বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগমনের হার আগের শিখরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আশ্রয়প্রার্থীদের কোথায় রাখা হবে—এই প্রশ্নটি এখনো সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

