20.5 C
London
September 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইসলাম নয়, উগ্রবাদই হুমকি—মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

ইসলাম এবং ইসলামপন্থাকে এক করে না দেখার বিষয়টি সামনে এনে যুক্তরাজ্যে উগ্রপন্থার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ‘ইসলামিজম ইজ আ থ্রেট টু ব্রিটেন। ইসলাম ইজ নট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সাময়িকীটি ইসলামকে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ইসলামপন্থাকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রবণতা হিসেবে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে।
ব্র্যাডফোর্ড থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে উগ্রপন্থার বিকাশ, এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে সোহাইল আহমেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি নিজেকে সাবেক ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র ছয় বছর বয়সে তার বাবা-মা তাকে উগ্রপন্থার প্রভাবের মধ্যে নিয়ে যান। তিনি স্মরণ করেন, তাদের বাড়িতে গান নিষিদ্ধ ছিল এবং তার একটি টেডি বিয়ারের মাথা কেটে দেওয়া হয়েছিল।
সোহাইল আহমেদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের বসনিয়া গণহত্যা তার পরিবারের মধ্যে উগ্রপন্থী চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাকে বলা হয়েছিল, বসনিয়ার ঘটনা শ্বেতাঙ্গদের মুসলিমদের প্রতি ঘৃণার প্রমাণ। তার মতে, ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে উগ্রপন্থার এটি ছিল প্রথম বড় ঢেউ।
তিনি আরও মনে করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের পর দ্বিতীয় দফায় উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটে। বর্তমানে গাজা সংঘাতকে তিনি সম্ভাব্য তৃতীয় পর্যায়ের উগ্রপন্থার প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন।
তার আশঙ্কা, গাজা নিয়ে সংঘাত ও ক্ষোভকে উগ্রপন্থীরা মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য ব্যবহার করতে পারে।
দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইসলামপন্থী মতাদর্শের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনামেই বলা হয়েছে, ইসলামপন্থা যুক্তরাজ্যের জন্য হুমকি হতে পারে, কিন্তু ইসলাম নয়।
প্রতিবেদনটির আলোচনায় মূলত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সাধারণ মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে দেখার বিষয়টি সামনে এসেছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি মুসলিম হওয়া এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়া একই বিষয় নয়—প্রতিবেদনের কাঠামোতে এই পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইসলামপন্থার সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সরকার কীভাবে নীতি নির্ধারণ করছে এবং একই সঙ্গে সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার ও সামাজিক অবস্থানকে কীভাবে বিবেচনা করছে—সেটিও আলোচনার অংশ।
প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উগ্রপন্থার সম্পর্ককে সরলভাবে দেখার পরিবর্তে এর পেছনে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বসনিয়া, ৯/১১, আফগানিস্তান, ইরাক এবং গাজা—বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ঘটনা কীভাবে উগ্রপন্থী প্রচারণায় ব্যবহৃত হতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রপন্থীরা আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের প্রচারণার ফলে মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নাগরিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শ মোকাবিলার পাশাপাশি সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে দেখার বিষয়টি প্রতিবেদনের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট
এম.কে

আরো পড়ুন

কারা আগে পাবেন করোনার ভ্যাকসিন

অনলাইন ডেস্ক

ভিসা হোল্ডারদের জন্য প্রপার্টি মর্গেজ

চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছে ব্রিটিশ তরুণরা, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের