গ্রেট ব্রিটেনজুড়ে একক-লিঙ্গের টয়লেট, পোশাক পরিবর্তন কক্ষ এবং হাসপাতালের ওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন আইনগত নির্দেশনা কার্যকর করেছে সমতা ও মানবাধিকার কমিশন (ইএইচআরসি)।
একক লিঙ্গের টয়লেট হলো এমন একটি টয়লেট যা কেবল নির্দিষ্ট একটি লিঙ্গের মানুষের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব একক-লিঙ্গের সুবিধা ব্যবহারের অধিকার নির্ধারণ করা হবে ব্যক্তির জন্মগত জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে। অর্থাৎ, পরবর্তীতে স্বীকৃত বা পরিবর্তিত লিঙ্গ পরিচয়ের পরিবর্তে জন্মের সময় নিবন্ধিত জৈবিক লিঙ্গই এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য হবে।
নতুন নির্দেশনা কার্যকরের ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রায় ১৩ হাজার টয়লেট এবং ৫ হাজার পোশাক পরিবর্তন কক্ষ নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংস্কার বা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। পাশাপাশি প্রায় ১৮ হাজার সাইনবোর্ড পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়ের কারণ হবে।
এই নির্দেশনা জিমনেসিয়াম, হাসপাতাল, অবকাশ ও ক্রীড়া কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ, হেয়ার সেলুন, স্থানীয় কাউন্সিল পরিচালিত জনসেবা প্রতিষ্ঠান এবং ২৫ বা তার বেশি সদস্যবিশিষ্ট ক্লাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেসব স্থানে নতুন নিয়ম অনুযায়ী একক-লিঙ্গের সুবিধা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, সেখানে সম্পূর্ণ পৃথক ও ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করা যায় এমন ইউনিসেক্স কিউবিকল ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ইএইচআরসি, যাতে সব ব্যবহারকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে ভবন সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামোগত সমন্বয়ের জন্য কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একক-লিঙ্গের স্থানগুলোর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্টতা আনা।
এই নির্দেশনা এসেছে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর, যেখানে সমতা আইন (ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট)-এর আওতায় ‘লিঙ্গ’ বলতে জন্মগত জৈবিক লিঙ্গকে বোঝানো হয়েছে। সেই রায়ের আলোকে ইএইচআরসি নতুন আইনগত নির্দেশনা জারি করেছে, যা এখন থেকে গ্রেট ব্রিটেনজুড়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুসরণীয় হবে।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

