10.3 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে খাদ্যের দাম ৫০% পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কাঃ সংকটে নিম্ন আয়ের পরিবার

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট শুরুর পর খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে এবং চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

গবেষণাটি বলছে, গত পাঁচ বছরে খাদ্যের দাম যে গতিতে বেড়েছে, তা আগের দুই দশকের বৃদ্ধির সমান। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির গতি প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্যভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনা টেইলর সতর্ক করে বলেছেন, খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য খরচ কমানোর আর কোনো পথ থাকে না। তারা বাধ্য হয়ে খাবার কমিয়ে দেয়, ফলে শিশুদের অপুষ্টি বাড়ে এবং খাদ্যসংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব পড়ে কর্মক্ষমতার ওপর এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট ২০২৬ সালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, কোভিড মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা খাদ্যদামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পাস্তা, হিমায়িত সবজি, চকলেট এবং ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম গত পাঁচ বছরে অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। গরুর মাংসের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ, আর জলপাই তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এসব বৃদ্ধির পেছনে তেল ও গ্যাসের দামের অস্থিরতা, কৃত্রিম সারের ব্যয় বৃদ্ধি এবং খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগ বড় ভূমিকা রেখেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয় গড়ে প্রায় ৬০৫ পাউন্ড বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাখন, দুধ, গরুর মাংস, চকলেট ও কফির মতো জলবায়ু-প্রভাবিত পণ্যগুলো মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনো প্রভাবের কারণে ২০২৭ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যে গত পাঁচ বছরে ইংল্যান্ডে রেকর্ডের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ তিনটি ফসল উৎপাদনের ঘটনা ঘটেছে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সংকটেও রূপ নিচ্ছে। গড় আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করলে খাদ্যের দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে, যা বিদ্যুৎ ও পানির মতো অন্যান্য অপরিহার্য খরচের সঙ্গে মিলিয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী ও ভাতা ভোগীদের নিয়ে বিতর্কিত কবিতাঃ ক্ষমা চাইলেন গির্জার পুরোহিত

লন্ডনে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গাড়ি লক্ষ্য করে আওয়ামী কর্মীদের ডিম নিক্ষেপ

ব্রিটিশ এয়ার ফোর্সের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত