TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ঘরভাড়া নিয়ন্ত্রণে অ্যাঞ্জেলা রেনারের সিদ্ধান্ত বদলের চাপঃ সাশ্রয় ১,৪১৮ পাউন্ড

ইংল্যান্ডে বেসরকারি বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ চালু না করার সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ধরনের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হলে ২০৩১ সালের মধ্যে একজন ভাড়াটিয়া বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪১৮ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। এই গবেষণার পর ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা সংসদ সদস্যরা সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের দাবি জোরালো করেছেন।

লেবার পার্টির সংসদ সদস্য ক্রিস হিনচলিফের উদ্যোগে অ্যাঞ্জেলা রেনারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। তাদের অধিকাংশ লেবার পার্টির হলেও কয়েকজন গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য এবং ‘ইওর পার্টি’র এমপি জেরেমি করবিনও চিঠিতে সমর্থন দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে একজন ভাড়াটিয়ার আয়ের গড়ে ৩৬ শতাংশ বাড়িভাড়ায় চলে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় নিজের মাথার ওপর ছাদ ধরে রাখতেই আয়ের প্রায় অর্ধেক ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভাড়াটিয়া দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, মানুষের আয়ের এত বড় অংশ যদি বাড়িভাড়ায় চলে যায়, তাহলে স্থানীয় দোকান, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় ব্যয় করার মতো অর্থ কমে যায়। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট নিয়ে আলোচনায় অতিরিক্ত বাড়িভাড়া একটি বড় সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংস্কারের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য ভাড়া নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

নতুন গবেষণাটি জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে অটোনমি ইনস্টিটিউট পরিচালনা করেছে। এতে ২০২৭-২৮ সাল থেকে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের তিনটি সম্ভাব্য পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে—মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া অপরিবর্তিত রাখা এবং তুলনামূলক নমনীয় একটি ব্যবস্থা।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ ভাড়া সম্পূর্ণ স্থির রাখা হলে প্রতি ভাড়ার চুক্তিতে বছরে ১ হাজার ৪১৮ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। মাঝারি ধরনের নিয়ন্ত্রণ চালু হলে বার্ষিক সাশ্রয় হতে পারে ৭০১ পাউন্ড। আর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সাশ্রয় দাঁড়াতে পারে বছরে ১৩০ পাউন্ড।

গবেষণায় অবশ্য শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নয়, বাড়িওয়ালাদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবও বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাড়িওয়ালাদের বন্ধকী ঋণের সুদের পুরো অর্থ কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে আনা এবং ভাড়া থেকে অর্জিত আয়ের ওপর জাতীয় বিমা প্রযোজ্য করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অটোনমি ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী ড. উইল স্ট্রংয়ের দাবি, ভাড়া নিয়ন্ত্রণকে প্রায়ই বাস্তবায়ন-অযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও সঠিকভাবে পরিকল্পিত ও সীমিত ভাড়া বৃদ্ধির ব্যবস্থা ভাড়াটিয়াদের জন্য আবাসন ব্যয় কমাতে পারে। তাঁর মতে, বাড়িওয়ালাদের ব্যয় ও কর ব্যবস্থার বিষয়টি ন্যায্যভাবে বিবেচনা করা হলে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কারণে বাড়িওয়ালাদের বড় ধরনের বাজারত্যাগের আশঙ্কাও এড়ানো সম্ভব।

তবে সরকারের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। অ্যাঞ্জেলা রেনার গত মাসে জানিয়েছিলেন, বর্তমান সময়ে ভাড়া স্থির করে দেওয়া বা ভাড়া নিয়ন্ত্রণকে তিনি সমাধানের উপযুক্ত পথ মনে করেন না। তাঁর যুক্তি, স্কটল্যান্ডসহ যেসব জায়গায় এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেখানে তা সবসময় ভাড়া কমিয়ে দিয়েছে—এমন প্রমাণ নেই।

সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই। আবাসন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সবসময় ভাড়া কমায় না। একই সঙ্গে নতুন ভাড়াটিয়াদের অধিকার আইন ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দিচ্ছে।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন আইনে বছরে একবারের বেশি ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়াদের আপত্তি জানানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং ভাড়াটিয়া পাওয়ার জন্য বাড়িওয়ালাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দর হাঁকার ব্যবস্থাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে বেসরকারি বাড়িভাড়া খাতের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। প্রায় পাঁচটি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার বেসরকারি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে। ফলে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একদিকে সরকার মনে করছে বিদ্যমান ভাড়াটিয়া সুরক্ষা আইনই অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা দিচ্ছে, অন্যদিকে গবেষণা ও ২৬ এমপির চিঠি বলছে—বর্তমান উচ্চ ভাড়ার চাপ মোকাবিলায় আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। ফলে ইংল্যান্ডের আবাসন সংকটের মধ্যে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ চালু হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে তিব্বতিয়ানদের বিক্ষোভ

ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের ২৫ কোটির বেশি পাউন্ডের সম্পদ জব্দ

নিলামে উঠছে পূর্ব লন্ডনের সবচেয়ে ছোট ফ্ল্যাট