TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিলে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কারণে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর সরাসরি বলেছেন, “ব্রিটেন যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, ইসরায়েলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।”

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘বড় ভুল’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল বিষয়ে ব্রিটিশ নীতিতে একটি ‘সমন্বিত পুনর্বিন্যাস’ আনা হবে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ই১ বসতি প্রকল্প। ইসরায়েল সেখানে নতুন বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের আশঙ্কা, ই১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ হলে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে বলেন, ই১ বসতি নিয়ে ইসরায়েলের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনের আগে ওই বসতি নিয়ে সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়া হলে তা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ‘বিপন্ন বা শেষ’ করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বার্নহ্যাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, ই১ বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ পার্লামেন্টে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

এরই মধ্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিম তীরে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন, নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ কিংবা বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার উপায় খুঁজছে সরকার। তার ভাষায়, ই১ প্রকল্প পশ্চিম তীরের ‘হৃদয়ের মধ্য দিয়ে’ যাওয়ায় এটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করছে।

মিলিব্যান্ড স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস হতে দেবে না। এ কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘বিস্তৃত পদক্ষেপ’ ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

শুধু বসতি নিয়ে বাণিজ্য নয়, ইসরায়েল বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক নীতিই পুনর্বিবেচনার আওতায় আসছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়সহ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আইনি প্রশ্নও নতুন নীতির অংশ হবে বলে জানিয়েছেন মিলিব্যান্ড।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্টিফেন ডটি আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

ডটি বলেন, ব্রিটিশ সরকার বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ই১ প্রকল্পের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

এ অবস্থায় লন্ডনের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তেল আবিবের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। একদিকে যুক্তরাজ্য বলছে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে; অন্যদিকে ইসরায়েল আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার জবাব দেওয়া হবে।

ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্ক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড়ের সামনে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ সরকার কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ঘোষণা করে এবং ইসরায়েল তার কী প্রতিক্রিয়া জানায়—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

‘ব্রিটেনকে অপমান করলেন পুতিন’—রুশ ফ্রিগেটের ঘটনায় প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর দাবি জোরালো

চ্যানেলে মানব পাচারে ব্যবহার হচ্ছে চোরাই চীনা নৌকা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন পরিকল্পনা ঘিরে চ্যালেঞ্জের পাহাড়