TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ছোট্ট গ্রামে ১,২৫০ অভিবাসী রাখার পরিকল্পনাঃ লেবার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হোটেলের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে লেবার সরকারের নতুন পরিকল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাফোকের ছোট্ট গ্রাম বার্নহ্যামে অবস্থিত সাবেক রয়্যাল বিমান বাহিনীর (আরএএফ) ঘাঁটিকে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি আবাসন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। সেখানে এক হাজার ২৫০ জন অভিবাসীকে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে রিফর্ম ইউকে পরিচালিত সাফোক কাউন্টি কাউন্সিল।

সাফোক কাউন্টি কাউন্সিলের নেতা কাউন্সিলর মাইকেল হ্যাডওয়েন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ‘প্রতিটি ধাপে লড়াই করবেন’। তার দাবি, একটি ছোট গ্রাম ও একটি গ্রামীণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সরকার আরএএফ বার্নহ্যামকে স্থায়ী অভিবাসী আবাসনে পরিণত করতে চায়, যেখানে বাসিন্দারা অবাধে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাফোকের জনগণের স্বার্থই তার কাছে সর্বাগ্রে এবং এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ঠেকাতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

কাউন্সিলের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হ্যাডওয়েন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পরও তার উদ্বেগ দূর হয়নি। তার ভাষায়, সরকারের উপস্থাপিত পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি কেবল অস্থায়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী অভিবাসী আবাসনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তার কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কাউন্সিল কিংবা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আগে থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের ঠিক আগে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন, যা স্থানীয় জনগণের প্রতি সরকারের অসম্মানজনক আচরণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হ্যাডওয়েন জানান, কাউন্সিল স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের কাছে তুলে ধরবে কেন বার্নহ্যাম এত বড় আকারের অভিবাসী আবাসনের জন্য উপযুক্ত নয়। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবেন।

তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বার্নহ্যামের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তাদের একজন বলেন, যারা সহায়তা ও আশ্রয়ের জন্য যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তাদের সহায়তা করাই ব্রিটিশ মূল্যবোধের অংশ হওয়া উচিত। যদিও তিনি মনে করেন, নির্জন এলাকায় অবস্থিত ওই কেন্দ্রটি শরণার্থীদের জন্য খুব সুবিধাজনক হবে না।

এদিকে, সাউথ ওয়েস্ট নরফোকের লেবার দলের সংসদ সদস্য টেরি জার্মিও এই পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, স্থানীয় জনগণের মতামত ও এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু সাফোক নয়, অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার এবং নর্থ ইয়র্কশায়ারের লিন্টন-অন-ওউজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক স্থাপনাগুলোকেও অভিবাসী আবাসন হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি চাইছে। তিনটি স্থাপনায় মোট তিন হাজার ৭৫০ জন অভিবাসীকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ইস্ট সাসেক্সের ক্রোবোরো এবং এসেক্সের ওয়েদার্সফিল্ডের বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারও আরও কয়েক বছর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

লেবার সরকার আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের ব্যবস্থা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের দাবি, হোটেলের পরিবর্তে সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করলে ব্যয় কমবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলোতে অস্থায়ীভাবে রাখা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

তবে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ওয়েম্বলিতে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা

অনলাইন ডেস্ক

ট্রাম্পকে উপেক্ষা করে যুক্তরাজ্য ও ইইউ’র কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা

অতিরিক্ত তহবিল ছাড়া ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে: মেয়রের দাবি