TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নকল প্রসাধনীতে পারদ, সীসা ও মিথানলঃ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

যুক্তরাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত নকল সৌন্দর্যচর্চা ও প্রসাধনসামগ্রী। জনপ্রিয় ও দামি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হুবহু নকল তৈরি করে অনলাইনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে প্রতারক চক্র। এসব পণ্যের পরীক্ষায় পারদ, সীসা ও মিথানলের মতো মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত করেছে দেশটির ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস কর্তৃপক্ষ। এতে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাগার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি স্কিনকেয়ার পণ্যে প্রতি ১০ লাখে ১৩ হাজার ২০০ ভাগ পর্যন্ত পারদ পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু লিপস্টিক ও আইশ্যাডোতে অতিরিক্ত মাত্রায় সীসা এবং কয়েকটি পারফিউমে নিকোটিন ও প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিষাক্ত মিথানল শনাক্ত হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের প্রায় ২০ শতাংশ জেনেশুনে নকল প্রসাধনী কিনেছেন। ২০২৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে জেনেশুনে নকল প্রসাধনী কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ এবং বিশেষায়িত অপরাধ তদন্ত ইউনিট যৌথ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬৬৬টি নকল হেয়ার প্রোডাক্ট জব্দ করে। অন্যদিকে, বোল্টন এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড মূল্যের নকল প্রসাধনী, পোশাক ও ভ্যাপ উদ্ধার করে ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, নকল প্রসাধনী কেনা ব্যক্তিদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই অনলাইনে এসব পণ্য অর্ডার করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বিক্রয়মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও কম দামের প্রলোভন দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিষাক্ত রাসায়নিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন স্বাধীন বিষতত্ত্ববিদ রানি ঘোষ। তিনি জানান, বাইরে থেকে দেখে কোনো প্রসাধনী আসল নাকি নকল, কিংবা এর মধ্যে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা বোঝার নির্ভরযোগ্য উপায় নেই।

তার সতর্কবার্তা অনুযায়ী, পারদ ও সীসার মতো ভারী ধাতু মানুষের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনির অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এসব উপাদানের সংস্পর্শ বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ফলে নকল প্রসাধনীর ব্যবহার শুধু ত্বকের সমস্যাই নয়, দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযানের পাশাপাশি ভোক্তাদেরও অনলাইনে প্রসাধনী কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক কম দাম, অপরিচিত বিক্রেতা এবং যাচাইহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রসাধনী কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেট ও লোগো হুবহু নকল করা হলেও ভেতরের উপাদান কতটা নিরাপদ, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

এসাইলাম শেল্টারে ব্রিটিশ পুরুষের যৌন নিপীড়নঃ ধর্ষণের শিকার নারী আশ্রয়প্রার্থী

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে হামাসের পক্ষে অবস্থান নিলে নাগরিকদের নামে হতে পারে ফৌজদারি মামলা

নিউজ ডেস্ক

অবৈধ আমদানি করা সুইটে সয়লাব যুক্তরাজ্যের হাই স্ট্রিটঃ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ