TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নাইটক্লাবে মদ্যপান করিয়ে তরুণীকে ধর্ষণঃ চেস্টার আদালতে দুই শরণার্থীর কঠোর সাজা

যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের উইন্সফোর্ড এলাকায় এক ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুই সিরীয় নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে চেস্টার ক্রাউন কোর্ট। এছাড়া তাদের নাম আজীবনের জন্য যৌন অপরাধী নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী দিলগাশ আদিল এক নাইটক্লাবে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর তিনি তাকে বারবার মদ্যপান করান। তরুণী এতটাই মাতাল হয়ে পড়েন যে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছিলেন না। পরে আদিল তাকে উইন্সফোর্ডের একটি এইচএমও (একাধিক বাসিন্দার যৌথ আবাসন)-এ নিয়ে যান এবং সেখানে যৌন নিপীড়ন করেন। এরপর তিনি তার বন্ধু, ২৮ বছর বয়সী আশ্রয়প্রার্থী দিয়ার মোহাম্মদ আবদুলসালমকে ডেকে এনে ধর্ষণে অংশ নিতে বলেন।

 

জুরি বোর্ড উভয়কে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করলে আদালত এই সাজা প্রদান করে।

বিচারক সাইমন বার্কসন একজন কুর্দি ভাষার দোভাষীর মাধ্যমে আসামিদের উদ্দেশে বলেন, “এটা একেবারেই স্পষ্ট যে, তোমরা দুজনই ওই তরুণীর অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়েছ। তিনি কোনোভাবেই সম্মতি দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন।” বিচারক আরও বলেন, “আমার মতে, নাইটক্লাবে তার দুর্বল অবস্থার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।”

আদালতকে জানানো হয়, ২১ ডিসেম্বর আদিল তার সহ-আসামির সঙ্গে দেখা করতে ওই আবাসনে যান। পরে তারা দুজন নাইটক্লাবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হন। আদিল তাকে আরও মদ কিনে দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আরও বেশি মাতাল হয়ে পড়েন। রাতের শেষে দুই ব্যক্তি তরুণী ও তার এক পুরুষ বন্ধুকে গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তরুণীর বন্ধু গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পরও দরজা খোলা রেখে দুই অভিযুক্ত তরুণীকে নিয়ে চলে যান।

 

যৌন নির্যাতনের পর তরুণী অত্যন্ত ভেঙে পড়া অবস্থায় তার মাকে ফোন করে জানান, তিনি জানেন না তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে। ভুক্তভোগীর লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার পর থেকে তিনি আর নিজেকে নিরাপদ মনে করেন না। তিনি আতঙ্কজনিত আক্রমণে ভোগেন, ঘুমাতে পারেন না এবং অপরিচিত মানুষের আশপাশে থাকলে তীব্র উদ্বেগ অনুভব করেন।

দিলগাশ আদিল আগে ভেড়ার রাখাল হিসেবে কাজ করতেন এবং ২০২০ সালে সিরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে এসে শরণার্থী মর্যাদা পান। দিয়ার মোহাম্মদ আবদুল সালম ২০২৩ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেন। অপরাধ সংঘটনের সময় পর্যন্ত তার অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি।

 

চেশায়ার পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান পরিদর্শক ইয়ান মারে বলেন, “আবদুল সালম ও আদিল এমন এক তরুণীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল, যিনি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে কোনো ধরনের সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। পুলিশ দ্রুত ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও জুরি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছেন এবং এখন তারা তাদের অপরাধের শাস্তি ভোগ করবেন।”

তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী কখনোই এই ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারবেন না। তবে আমি আশা করি, এই রায় তাকে কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি দেবে, কারণ তিনি জানেন অপরাধীরা এখন কারাগারে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” গোয়েন্দা কর্মকর্তা যৌন অপরাধের শিকার বা এ ধরনের ঘটনার সাক্ষীদের পুলিশকে জানাতে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামে অপরাধের হার জাতীয় গড়ের দ্বিগুণের কাছাকাছি

গণপরিবহনে পোকামাকড়ের উপদ্রবঃ লন্ডনের জন্য লজ্জাজনক দৃশ্য

৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড স্ট্যাম্প ডিউটি বাঁচিয়েছেন টনি ব্লেয়ার