20.9 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রথমবার বাড়ি কেনার প্রকল্পঃ লন্ডনের বহু মানুষ সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য লেবার সরকারের নতুন আবাসন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী ও আবাসন খাতের প্রতিনিধিরা। তাদের আশঙ্কা, নতুন এই প্রকল্পের নিয়মকানুন লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের বাড়ির উচ্চমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে এসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ঘোষিত ‘ইয়োর ফার্স্ট হোম’ নামের প্রকল্পটি চলতি বছরের শেষ দিকে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের সহায়তা করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইকুইটি ঋণ পাবেন। পাশাপাশি ক্রেতাকে নিজের পক্ষ থেকে মাত্র ২.৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। তবে বাড়ির মূল্য এবং পরিবারের আয়ের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হবে।

লন্ডন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এলসিসিআই) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছে, অঞ্চলভেদে বাড়ির দামের বড় পার্থক্য বিবেচনায় না নিলে নতুন প্রকল্পটি লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের মানুষের জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। সংস্থাটি প্রায় ১২ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে।

আবাসন সংস্থা মার্টিন জেরার্ডের সাইমন জেরার্ড বলেন, প্রকল্পটির নিয়ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আবাসন বাজারের বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, লন্ডনে বাড়ির দাম জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। ফলে রাজধানীতে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের বেশি ডাউন পেমেন্ট এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে দ্য টাইমস জানিয়েছিল, প্রস্তাবিত আয়সীমা অনুযায়ী লন্ডনে বার্ষিক ১ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৯০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করেন—এমন ব্যক্তিরাই প্রকল্পটির সুবিধা পেতে পারেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পের সব শর্ত এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এলসিসিআই সতর্ক করেছে, আয়ের সীমা কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হলে লন্ডনের কোনো শিক্ষক বা নার্স তাদের বেতনসীমার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে প্রকল্পের সুবিধা হারাতে পারেন। সংস্থাটির হিসাবে, অভ্যন্তরীণ লন্ডনে বেতনসীমার শীর্ষ পর্যায়ে থাকা শিক্ষক ও নার্সদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আয়সীমা প্রায় ৩০০ পাউন্ডের ব্যবধানে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিতে পারে। এতে অতিরিক্ত বেতন বা বেতন বৃদ্ধি গ্রহণে অনীহা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের ‘হেল্প টু বাই’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালে বন্ধ হয়। সেই প্রকল্পে আয়ের কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছিল না। তবে লন্ডনের তুলনামূলক বেশি বাড়ির দাম বিবেচনায় সেখানকার ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ইকুইটি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পেতেন। নতুন প্রকল্পে লন্ডনবাসীর জন্য একই ধরনের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

আবাসন সংস্থা স্যাভিলসের লুসিয়ান কুক বলেন, লন্ডনের আবাসন বাজার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। তাই সারা দেশের জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করলে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী লন্ডনবাসীর প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ হবে না।

স্যাভিলসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লন্ডনে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকা পরিবারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ গড় দামের নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখে। এ হিসাব করা হয়েছে ৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট এবং বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ ইকুইটি ঋণের ভিত্তিতে। প্রকল্পের আওতায় বাড়ি নির্মাতাদেরও ২.৫ শতাংশ অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চাপে থাকা বাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছে। লেবার সরকার পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৫ লাখ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য পূরণে আগেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। প্রকল্প ঘোষণার পর আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্যও প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ২৮ অক্টোবর বাজেট ঘোষণার সময় প্রকল্পটির বিস্তারিত শর্ত তুলে ধরতে পারেন অর্থমন্ত্রী জন হিলি।

যুক্তরাজ্যের আবাসন, সম্প্রদায় ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ইয়োর ফার্স্ট হোম’ প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সারা দেশের সম্ভাব্য ক্রেতা ও বাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রকল্পটি কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সরকারের সংস্কারের ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় লন্ডনে আবাসন নির্মাণের কাজ শুরুর সংখ্যা ২৯৮ শতাংশ বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

বিশেষ সুবিধা নয়, আইনের দৃষ্টিতে সমান আচরণ চান ব্রিটিশ মুসলমানরাঃ সারা খান

প্রধানমন্ত্রী নিজের দায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিবের উপর চাপিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনীতিবিদেরা

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে সকল মুসলিম ভোটার এক ছাতার নীচে আনতে কাজ শুরু করেছে বৃহৎ মুসলিম সংগঠন