17.4 C
London
June 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রবেশে গ্রীষ্মকালীন ছুটির ভ্রমণকারীদের জন্য সতর্কবার্তা

গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করছেন। তবে বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় লাগেজে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য বহন করলে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারেন যাত্রীরা। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আমদানি বিধি অনুযায়ী, নিষিদ্ধ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এসব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে ‘ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’ (এফএমডি) বা খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সীমান্তে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হলেও বিদেশ থেকে গরু, শূকর, ভেড়া কিংবা ছাগলের মাংস এবং এসব মাংস দিয়ে তৈরি খাদ্যপণ্য যুক্তরাজ্যে আনা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে সসেজ, সালামি, হ্যাম, বেকনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত মাংস। একই সঙ্গে চিজ, দুধ এবং কিছু দুগ্ধজাত পণ্যও আমদানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ির আওতায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক পর্যটক বিদেশ ভ্রমণের সময় স্থানীয় বাজার কিংবা বিমানবন্দরের ডিউটি-ফ্রি দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে থাকেন। কিন্তু কোনো পণ্য বৈধভাবে ক্রয় করা হলেও সেটি যদি যুক্তরাজ্যের আমদানি বিধিমালার আওতায় নিষিদ্ধ হয়, তাহলে সীমান্তে তা জব্দ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সীমান্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হতে পারে। নিষিদ্ধ খাদ্যপণ্য শনাক্ত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হবে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা আরোপের ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

তবে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও রয়েছে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ দুধ, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য সীমিত পরিমাণে আনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবুও ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার আগে সর্বশেষ কাস্টমস ও সীমান্ত সংক্রান্ত নির্দেশিকা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক যাত্রী আমদানি বিধিনিষেধ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করেন। ফলে বিদেশে কেনাকাটার সময় সতর্ক থাকা এবং কোনো খাদ্যপণ্য বহনের আগে সেটি অনুমোদিত কি না তা নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, বিদেশ ভ্রমণের স্মৃতি হিসেবে স্থানীয় খাবার বা বিশেষ খাদ্যপণ্য সঙ্গে আনার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু সামান্য অসতর্কতার কারণে সেই স্মৃতিই পরিণত হতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানার কারণ। তাই যুক্তরাজ্যে ফেরার আগে লাগেজে থাকা খাদ্যসামগ্রী ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া এবং প্রযোজ্য বিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিকটবর্তী, আলোচনায় ল্যামি

ডোভারে নতুন ইইউ সীমান্ত ব্যবস্থা স্থগিত—ব্যাংক হলিডেতে চরম ভোগান্তি

নিপীড়নের অভিযোগ: পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী