16.3 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ‘ফেইক ম্যারেজ’ ও প্রতারণার পথে ভিসা নয়ঃ আইনি জটিলতার আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ব্রিটিশ হাই কমিশন। ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, ভুয়া দলিল দাখিল এবং প্রতারণামূলক বিয়ের (ফেইক ম্যারেজ) মতো ঘটনা আবিষ্কৃত হলে সেই ব্যক্তির জন্য যুক্তরাজ্যের দরজা কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ব্রিটিশ হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেউ যদি ব্রিটিশ ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে জাল কাগজপত্র জমা দেন, তবে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুতর এবং তা প্রায় সব ক্যাটাগরির ভিসার (ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক, ফ্যামিলি) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও প্রতারণামূলক অফার দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ হাই কমিশন বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে সতর্কতামূলক বার্তা ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ওইসব বিজ্ঞাপনে ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদনকারীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যা পরে তাদের জন্য ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া বিশেষ করে ‘শ্যাম ম্যারেজ’ বা ভুয়া বিয়ের ঘটনায় কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্রিটিশ আইনে কেবল বৈধ ও বাস্তবসম্মত দাম্পত্য সম্পর্ক ভিসার স্বীকৃতি পায়। আবেদনকারী যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন যে তার বিয়ে কেবল ভিসা পাওয়ার জন্যই সম্পন্ন হয়েছে, তবে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এমন প্রমাণিত হলে ভিসা তো পাওয়া যাবেই না, বরং আবেদনকারীকে আইনানুগ কঠিন ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে, যা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

ব্রিটিশ হাই কমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা প্রতারণার যেকোনো চিহ্ন খুব সূক্ষ্মভাবে যাচাই করি। ভুয়া দলিল ও জাল বিয়ের মাধ্যমে সিস্টেমকে ঠকানোর চেষ্টা করলে তার মারাত্মক পরিণতি হবে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।”

তাই যেকোনো ভিসা আবেদনের আগে সঠিক তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর এবং যুক্তরাজ্যের ভিসাসংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে সবসময় নির্ভরযোগ্য ও সরকারি উৎস ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা:
gov.uk/browse/visas-immigration

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, জাল কাগজাদি বা প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে একজন পেশাদার আইনি পরামর্শদাতার মাধ্যমে সঠিক নিয়মে আবেদন করাই নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। আর মেয়াদোত্তীর্ণ তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘সহজ সমাধান’ দেয় এমন বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলতে হবে।

সূত্রঃ ব্রিটিশ হাই কমিশন বাংলাদেশ

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ

পুলিশে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টিতে কলকাঠি নাড়ছেন কামাল-নানকরা

ইউরোপ ভ্রমণের জন্য নাগরিকদের ই-গেইট ব্যবহারের চুক্তি করতে উদগ্রীব যুক্তরাজ্য