TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বৃক্ষরোপণ, নদী পরিষ্কার ও কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন হাজারো আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের সমাজের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ও শরণার্থী-সহায়তা সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করে প্রকৃতি রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ওয়েলসসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

উত্তর ওয়েলসের ল্যাংলোলেন উপত্যকায় ডি নদীর তীরে অবস্থিত টাই মাওর কান্ট্রি পার্কে সম্প্রতি কয়েক ডজন আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী এবং স্থানীয় পরিবেশকর্মী একত্রে আগ্রাসী ‘হিমালয়ান বালসাম’ উদ্ভিদ অপসারণে অংশ নেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগাছা স্থানীয় উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। তীব্র গরম উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবীরা নদীর তীর পরিষ্কার করতে কাজ চালিয়ে যান।

এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে অ্যাকশন অ্যাসাইলাম, অ্যাসাইলাম লিংক মার্সিসাইড, নর্থ ওয়েলস ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট এবং ডি ট্রাস্ট। প্রতি তিন মাস অন্তর আয়োজিত জলবায়ুবিষয়ক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী ও স্থানীয় মানুষ একসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। কর্মসূচির আওতায় নদী ও সৈকত পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং সবজি চাষের মতো নানা উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।

সুদান থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী আবদুল্লাহ বলেন, টাই মাওর পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে। তার ভাষায়, এই পরিবেশ তাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও আশ্রয়-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও হোম অফিসের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার চাপ ভুলে থাকতে সাহায্য করে।

তিনি জানান, সুদানের দারফুরে নিজের গ্রামে তিনি পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। তার মা আম, লেবু ও মরিচ উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে পরিবারকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। যুক্তরাজ্যে আবারও মাটিতে কাজ করার সুযোগ তাকে নিজের দেশের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

২০২০ সালে শুরু হওয়া অ্যাকশন অ্যাসাইলাম প্রকল্পটি টাস্ক ফোর্স ট্রাস্ট পরিচালনা করছে। সংস্থাটি সম্প্রতি ন্যাশনাল লটারির ক্লাইমেট অ্যাকশন ফান্ড থেকে ১৬ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডের অর্থায়ন পেয়েছে। আগামী তিন বছরে তারা শেফিল্ড, নিউক্যাসল ও বোল্টনসহ নতুন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করবে। একই সঙ্গে লিডস, স্টকটন-অন-টিস, পোর্টসমাউথসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান প্রকল্পও অব্যাহত থাকবে।

সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে তিন হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে সম্পৃক্ত করে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে ১২০টি বৃহৎ জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রকল্পটির অন্যতম দূত ও নিজেও একজন শরণার্থী জেন বলেন, একটি গাছ লাগানোর সময় মানুষ কোথা থেকে এসেছে বা তার পরিচয় কী—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার মতে, মানুষ যখন মাটির সঙ্গে কাজ করে, তখন সে পৃথিবীর একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে অনুভব করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু গাছ লাগাই না, আমরা আপনত্ব এবং জীবনের উদ্দেশ্যও রোপণ করি।”

অ্যাকশন অ্যাসাইলামের প্রকল্প পরিচালক এমা লিপার বলেন, প্রকৃতির মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সামাজিক যোগাযোগ এবং আত্মপরিচয়ের অনুভূতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। নতুন অর্থায়নের ফলে এই কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

ইথিওপিয়া থেকে আসা আরেক আশ্রয়প্রার্থী সলোমন বলেন, পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নদীর তীর পরিষ্কার এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

নর্থ ওয়েলস ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের কর্মকর্তা জেমা রোজ বলেন, অনেক আশ্রয়প্রার্থী দীর্ঘ সময় হোটেলেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তাদের জন্য প্রকৃতির মাঝে এসে কাজ করার সুযোগ মানসিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা পেঁয়াজ, আলু, রসুন ও বিভিন্ন সবজির চাষও করছেন। আয়োজকদের মতে, এসব কার্যক্রম শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে নয়, আশ্রয়প্রার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

রূপপুর প্রকল্পে আত্মসাতের অর্থে লন্ডনে বাড়ি কিনেছেন টিউলিপ, দুদকের বরাতে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

যুক্তরাজ্যে ফিরে আসছে ৭০-এর অর্থনৈতিক অস্থিরতা

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা চলাকালীন টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভিডিও আপলোডে বিপাকে NHS