18.4 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভাড়া বাড়ছে যাত্রীদেরঃ কিন্তু পার্কিং জরিমানায় ৩০ হাজার পাউন্ড খরচ টিএফএলের

যাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর মধ্যেই করদাতাদের অর্থ ব্যবহারে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থা। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র এক বছরে পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মীদের পার্কিং জরিমানা ও সড়কসংক্রান্ত বিভিন্ন জরিমানা বাবদ ৩০ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

২৮ আগস্ট প্রকাশিত মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের কার্ড দিয়ে করা ২৫০ পাউন্ডের নিচের লেনদেন নিয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের জবাবে এসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ১৪৩টি পার্কিং জরিমানা বাবদ সরাসরি ১৬ হাজার পাউন্ডের বেশি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থায় আরোপিত জরিমানা হিসেবে আরও ৯ হাজার ৪৬০ পাউন্ড পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি পার্কিং প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থাকে আরও ৬ হাজার ৬৩১ পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। সবগুলো লেনদেন পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অথবা প্রধান গ্রাহক ও কৌশল কর্মকর্তার বিভাগের অধীনে তালিকাভুক্ত ছিল।

পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, এসব জরিমানা সবসময় ব্যক্তিগত ভুলের কারণে হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো ঘটনার সবচেয়ে কাছের জায়গায় গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে কর্মীদের অনেক সময় জরিমানার মুখে পড়তে হয়। দ্রুত জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের কার্ড ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মী পরে সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেন বলেও জানানো হয়েছে।

তবে এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামেনি। বিরোধী কনজারভেটিভ দলের নেতারা করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। লন্ডনবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী গ্যারেথ বেকন অভিযোগ করেন, একদিকে পরিবহন কর্তৃপক্ষ লন্ডনবাসীর ওপর বিভিন্ন ধরনের ব্যয় চাপাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয়ের মতো ঘটনা সামনে আসছে।

কনজারভেটিভ দলের জুলিয়া লোপেজও সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ চালকদের সামান্য ভুলের জন্য কঠোর জরিমানা করা হলেও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মীদের জরিমানার ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লন্ডন পরিষদের কনজারভেটিভ সদস্য নিল গ্যারাটও বিষয়টিকে গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একদিকে যাত্রীদের ভাড়া বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্ড ব্যবহার করে এ ধরনের ব্যয় করদাতাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

করদাতাদের অর্থের ব্যবহার নিয়ে কাজ করা করদাতা জোটের জনাথন এডাও পরিবহন কর্তৃপক্ষের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রেও যথাযথ আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে শুধু পার্কিং জরিমানাই নয়, কর্মীদের কার্ড ব্যবহার করে করা আরও কিছু ছোটখাটো ব্যয়ের তথ্যও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সংবাদপত্র কেনার জন্য কয়েক দফায় ২ পাউন্ড করে খরচের তথ্য রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়ার জন্য অর্থপ্রদানের দেয়াল অতিক্রম করতে ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টে একটি খাবারের দোকানে ২৩৭ পাউন্ড ৫০ পেন্স এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেকটি খাবারের দোকানে ২০৯ পাউন্ড ৫০ পেন্স খরচের তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত সময় কাজ করা কর্মী, জরুরি পরিচালনামূলক কাজে নিয়োজিত কর্মী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকদের খাবার ও পানীয় সরবরাহের জন্য এসব ব্যয় করা হয়েছিল।

একটি মদ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে ১৯১ পাউন্ডের একটি লেনদেনও ছিল। তবে পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মদের জন্য নয়; লন্ডন পরিবহন জাদুঘরের একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের জন্য অ্যালকোহলমুক্ত পানীয় কেনার এককালীন ব্যয় ছিল।

বর্তমানে পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মীদের জন্য ৮০টি প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ড বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ৬০টি সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে।

এই ব্যয়ের তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন লন্ডনের গণপরিবহনের খরচ নিয়েও মানুষের মধ্যে চাপ বাড়ছে। সম্প্রতি পাতাল রেলের ভাড়া গড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে বাস ও ট্রামের একক যাত্রার ভাড়াও ১০ পেন্স বেড়ে ১ পাউন্ড ৮৫ পেন্স হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানের কার্ড ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। জরুরি পরিচালনামূলক কারণে করা পার্কিং জরিমানা যথাযথভাবে অনুমোদিত, নথিভুক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

ফলে একদিকে করদাতাদের অর্থের জবাবদিহি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়লেও, পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো—জরুরি দায়িত্ব পালনের সময় তৈরি হওয়া কিছু ব্যয়কে ব্যক্তিগত সুবিধা বা অপচয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষায় যা কিছু প্রয়োজন, করবঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ

যুক্তরাজ্যে রেন্টাল খাতে বড় সংস্কার আনছে লেবার সরকারঃ ডিপোজিট আত্মসাতের পথ বন্ধ

ফোর্বসের তালিকায় এশিয়ায় শীর্ষ ১০০ স্টার্টআপে বাংলাদেশের পাঠাও ও সম্ভব