24.2 C
London
August 23, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভেপ ও বেটিং শপে কড়াকড়িঃ কাউন্সিলকে ক্ষমতা দিল সরকার

যুক্তরাজ্যের হাই স্ট্রিটে ভেপের দোকান, বেটিং শপ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের গেমিং সেন্টারের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ঠেকাতে বড় ধরনের সংস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে নতুন ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে তারা স্থানীয় জনগণের আপত্তি থাকলে এসব ব্যবসার নতুন শাখা খোলার আবেদন সহজেই প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, ২০০৫ সালের জুয়া আইনের বিতর্কিত ‘এম টু পারমিট’ নীতি বাতিল করা হবে। এতদিন এই বিধানের কারণে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর পক্ষে নতুন বেটিং শপ বা ২৪ ঘণ্টার স্লট মেশিন কেন্দ্রের আবেদন নাকচ করা কঠিন ছিল। নতুন ব্যবস্থায় স্থানীয় জনগণ ও কাউন্সিল তাদের এলাকার জন্য কী ধরনের ব্যবসা উপযুক্ত হবে, সে বিষয়ে আরও শক্তিশালী মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নতুন ভেপ বা ই-সিগারেটের দোকান খুলতে হলে আগে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা অনুমতি নিতে হবে। বিশেষ করে স্কুলের আশপাশে ভেপের দোকান খোলার আবেদন স্থানীয় কাউন্সিল চাইলে আটকে দিতে পারবে। পাশাপাশি ভেপের দোকানের আইনি সংজ্ঞাও পরিবর্তন করা হবে, যাতে সাধারণ মুদি বা কনভেনিয়েন্স স্টোরের পরিচয়ে কেউ নতুন নিয়ম এড়িয়ে যেতে না পারে।

শুধু ভেপ নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত গেমিং সেন্টার—যেখানে স্লট ও ফলের মেশিনে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত জুয়ার সুযোগ থাকে—সেগুলোর ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পরিবর্তন আগামী বছরের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

সংস্কারের অংশ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অবৈধ ভেপ ব্যবসা, অবৈধ তামাক বিক্রি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরও বেশি সময় দেওয়া হবে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যে ক্ষমতা রয়েছে, তা বাড়িয়ে ১২ মাস করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, বছরের পর বছর অবক্ষয়ের কারণে অনেক এলাকার হাই স্ট্রিট আগের পরিচয় হারিয়েছে। তার ভাষায়, মানুষের প্রয়োজনীয় দোকান, সেবা ও সামাজিক পরিসরের জায়গা দখল করে নিয়েছে ভেপের দোকান, বেটিং শপ ও অনিয়ন্ত্রিত কিছু ব্যবসা। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে হাই স্ট্রিটকে আবার প্রাণবন্ত করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও বলেছেন, স্থানীয় মানুষ নিজেরাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন তাদের এলাকার হাই স্ট্রিট আর কার্যকর নেই। তাই কাউন্সিলকে আরও ক্ষমতা দিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলা করাই সরকারের উদ্দেশ্য।

সূত্রঃ ইউকে.গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

বিলেতের প্রপার্টি মার্কেটের অস্থিরতা

চ্যানেলে মানব পাচারে ব্যবহার হচ্ছে চোরাই চীনা নৌকা

অনলাইন ডেস্ক

৫০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্রিটেনঃ ট্রাম্প যুগে বৈশ্বিক প্রভাব হারাল যুক্তরাজ্য