লন্ডনের অভিজাত মে-ফেয়ার এলাকায় একটি নাইটক্লাবের ভিআইপি সেকশন থেকে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করেছেন এক আলবেনীয় অপরাধী, যাকে আশ্রয় আবেদনের কারণে যুক্তরাজ্য থেকে এখনই বহিষ্কার করা যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, তিনি বিলাসী জীবনের প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছেন।
৩১ বছর বয়সী ডোরিয়ান পুকাকে সার্ক লে সোয়া নামের একটি নামকরা নাইটক্লাবে শীশা টানতে দেখা যায়। তার চারপাশে ছিল নৃত্যশিল্পী এবং হাজার পাউন্ড মূল্যের শ্যাম্পেন। এসব দৃশ্য তিনি নিজেই ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে পোস্ট করেছেন।
ডোরিয়ান পুকা এর আগে একাধিক চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে দুইবার কারাদণ্ড ভোগ করে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে প্রতিবারই তিনি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে আবার দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। সর্বশেষ বার যুক্তরাজ্যে ফেরার পর তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন, যার ফলে তার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাকে অপসারণ করতে পারছে না।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর স্বীকার করেছে, আশ্রয় দাবির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনগতভাবে তাদের হাত বাঁধা। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে পুকা প্রকাশ্যে কর্তৃপক্ষকে বিদ্রুপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত এক বছর ধরে পুকা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিলাসী জীবনের ভিডিও প্রকাশ করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে কালো রোলস-রয়েস কুলিনান গাড়ি, যার ওপর বসে থাকা একটি ‘হাইব্রিড সাভানাহ’ বিড়াল—যার মূল্য তিনি নিজেই প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বলে দাবি করেছেন।
এছাড়া তিনি লাল ফেরারি, ২০২২ সালের ল্যাম্বরগিনি উরুস ভি৮ (মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৫০ পাউন্ড) এবং একাধিক দামি রোলেক্স ঘড়ি প্রদর্শন করেছেন। তার ঘড়ির সংগ্রহে রয়েছে রোলেক্স ডে-ডেট বা ‘রোলেক্স প্রেসিডেন্ট’, যার মূল্য প্রায় ৫৩ হাজার পাউন্ড। কম দামের ঘড়িগুলোর মূল্যও ৫ থেকে ১০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে।
পুকার অপরাধের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০১৬ সালে একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করার সময় তিনি ধরা পড়েন। বাড়ির মালিক ফ্রান্সে ছুটিতে থাকাকালীন ওয়েবক্যামের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করেন। ওই ঘটনায় তিনি নয় মাসের কারাদণ্ড পান এবং পরের বছর তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এর এক বছরের মধ্যেই তিনি আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে এসে লন্ডনের বিভিন্ন উপশহরে ধারাবাহিক চুরিতে জড়িয়ে পড়েন। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সারবিটনে চুরির ঘটনা বেড়ে গেলে সাদা পোশাকে টহল দেওয়া পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার গোপনে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর বহিষ্কারের মুখে পড়ে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি অভিবাসন জামিনে রয়েছেন এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক ট্যাগ লাগানো আছে।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। এক পর্যায়ে তিনি রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফ্যারাজকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপমূলক পোস্ট দেন, যখন ফ্যারাজ তাকে ‘ভুল লোক’ বলে দেশছাড়া করার দাবি জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুতর অপরাধের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি বহিষ্কার এড়িয়ে প্রকাশ্যে বিলাসী জীবনযাপন করতে পারেন—তা নিয়ে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

