8.8 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লেবার দলে বিদ্রোহের ঝড়ঃ চার এমপিকে বহিষ্কার, তিনজন হারালেন বাণিজ্য দূতের পদ

লেবার পার্টিতে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কিয়্যার স্টারমার। সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বারবার ভোট দেওয়ায় চারজন এমপিকে হুইপ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন—র‍্যাচেল মাস্কেল, নেইল ডানকান-জর্ডান, ব্রায়ান লেইশম্যান এবং ক্রিস হিঞ্চলিফ।

এই চারজন সংসদ সদস্য সরকারপ্রধানের কল্যাণ নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন। শীতকালীন জ্বালানি ভাতা এবং প্রতিবন্ধী সুবিধা কাটছাঁটের বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরিবেশবিরোধী পরিকল্পনা বিল নিয়েও হিঞ্চলিফ সংগঠিত করেন বিদ্রোহ।

একইসঙ্গে তিনজন লেবার এমপিকে বাণিজ্য দূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন: রোসেনা অলিন-খান, বেল রিবেইরো-অ্যাডি এবং মোহাম্মদ ইয়াসিন। এদের কেউ কেউ মাত্র একবার বিদ্রোহ করেছিলেন।

লেবার ব্যাকবেঞ্চাররা এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ। একজন বামপন্থী এমপি একে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরির চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা লেবার মূল্যবোধ রক্ষার জন্যই অবস্থান নিয়েছি।”

বহিষ্কৃত এমপিরা লেবার দলে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মাস্কেল বলেন, “আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য অবস্থান নিয়েছি, আর সেই কারণেই আমাকে শাস্তি পেতে হলো।” হিঞ্চলিফ জানান, “আমি গর্বিত লেবার এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”

এদের মধ্যে তিনজনই ২০২৪ সালের নতুন এমপি, যারা আগে কখনো লেবার সমর্থিত আসন থেকে নির্বাচিত হননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও স্টারমার সাতজন এমপির হুইপ প্রত্যাহার করেছিলেন যখন তারা দুই সন্তান সীমা বিল বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন করবিনপন্থী বাম রাজনীতিক।

লেবার দলের ভেতরে এখন নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পার্টির চেয়্যার জেসিকা মরডেন হুইপ প্রত্যাহারের কিছুক্ষণ পরই এমপিদের ‘রিল্যাক্সিং ছুটি’ কামনা করে ইমেইল পাঠান, যা অনেককে ক্ষুব্ধ করেছে।

ফায়ার ব্রিগেডস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক স্টিভ রাইট এই সিদ্ধান্তকে অভিহিত করেছেন “একটি কর্তৃত্ববাদী ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ” হিসেবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
১৭ জুলাই ২০২৫

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ফুটপাথে ফেলে রাখা বিনে £৮০ জরিমানা, কাউন্সিলের কঠোর নির্দেশনা

‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হওয়া বাংলাদেশি কূটনীতিক ফয়সাল যুক্তরাজ্যে আটক

বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য পুলিশের তদন্ত শুরু