9.4 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শরণার্থী নীতিতে বড় পরিবর্তন, আদালতে চ্যালেঞ্জ সুদানের দুই আশ্রয়প্রার্থীর

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের জন্য ঘোষিত নতুন নীতিমালাকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সুদানের দুই আশ্রয়প্রার্থী, যারা দাবি করেছেন—নতুন নীতি বৈষম্যমূলক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ক্ষতিকর।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শরণার্থীদের দেশে থাকার অনুমতির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করা হচ্ছে। আগে যেখানে পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যেত, সেখানে এখন সেই সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০ বছর। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হবে।

এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো দুই আশ্রয়প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এখনো সেই মানসিক আঘাত থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি। তাদের মতে, নতুন এই নীতি তাদের মতো শরণার্থীদের জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়াবে এবং কোনোভাবেই নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে পারবে না।

পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরে সুদানের আশ্রয়প্রার্থীদের বিপুল অংশই সুরক্ষা পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে তাদের দাবির যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এমনকি প্রকৃত শরণার্থীরাও নাকি বিভিন্ন দেশে ঘুরে সবচেয়ে সুবিধাজনক আশ্রয়ের স্থান খুঁজে নেন—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থা এ নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এত স্বল্পমেয়াদি অনুমতি শরণার্থীদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে, সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তি ব্যাহত করবে এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। একই সঙ্গে, বারবার পুনর্মূল্যায়নের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

এছাড়া, নতুন নীতিতে শরণার্থীদের পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। আগে যেখানে স্বামী-স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের সহজেই নিয়ে আসা যেত, এখন তা নির্ভর করবে আর্থিক সামর্থ্যের ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে একবার শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হলে তা খুব কম ক্ষেত্রেই বাতিল করা হয়। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অস্থায়ী মর্যাদা দেওয়ার ফলে শরণার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বাধাগ্রস্ত হয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতির মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে তা ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি শরণার্থীদের প্রতি পরোক্ষ বৈষম্য সৃষ্টি করবে। ফলে বিষয়টি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

সামগ্রিকভাবে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে শরণার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অবৈধ ডেলিভারি রাইডার চিহ্নিত করতে অ্যাসাইলাম হোস্টেলের ঠিকানা দেবে ব্রিটেন সরকার

‘রাজকীয় মর্যাদা হারিয়ে সাধারণ নাগরিক’: প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতার আহ্বান