TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সমকামী ও ইহুদিদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ, হাউনসলোর মসজিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সমকামীদের নিয়ে এক ইমামের বিতর্কিত বক্তব্য এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের অভিযোগে অভিযুক্ত এক বিদেশি বক্তাকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনায় পশ্চিম লন্ডনের হাউনসলো জামিয়া মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টার-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও চ্যারিটি আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে একটি রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স কেস খোলা হয়েছে।

চ্যারিটি কমিশন জানিয়েছে, ন্যাশনাল সেক্যুলার সোসাইটি-এর দায়ের করা অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তারা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে মসজিদ পরিচালনাকারী ট্রাস্টিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মসজিদে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে ইমাম শায়খ আম্মার সিদ্দিকী সমকামীদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। ওই সেমিনারের ভিডিও পরে মসজিদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) আন্দোলনের উদ্দেশ্য মানবজাতিকে ধ্বংস করা, কারণ তাদের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সমকামিতার জন্য প্রচলিত মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আইন মানুষকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে ন্যাশনাল সেক্যুলার সোসাইটি অভিযোগ করেছে, মসজিদটি মিশরীয় বক্তা ইউসরি জাবারকে বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতের সমর্থন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ইউসরি জাবার বলেন, “ইহুদিদের হত্যা করার পরই যুদ্ধ শেষ হবে।” এ ধরনের বক্তব্যের কারণে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়ার দাবি উঠলেও তিনি চলতি সপ্তাহে হাউনসলোর ওই মসজিদে বক্তব্য দেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালে তেল আবিবের মাইকস প্লেস বারে আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেওয়া আসিফ হানিফ অতীতে এই মসজিদে যাতায়াত করতেন।

ন্যাশনাল সেক্যুলার সোসাইটির প্রচারপ্রধান মেগান ম্যানসন বলেন, সরকারি অর্থায়ন পাওয়া একটি নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি চ্যারিটি কমিশনের কাছে মসজিদটির নিবন্ধিত চ্যারিটি হিসেবে উপযুক্ততা এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনাকারী হিসেবে এর ভূমিকা মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

চ্যারিটি কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান তাদের ভবন, অনুষ্ঠান বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। জনগণ আশা করে, চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান সমাজে বিভাজন নয়, বরং সম্প্রীতি গড়ে তুলবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হাউনসলো জামিয়া মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টার ট্রাস্ট জানিয়েছে, ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তারা তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাস্টের দাবি, তারা ব্রিটিশ মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং চ্যারিটি কমিশনের নির্দেশনা মেনে পরিচালিত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সমাজে সব ধরনের ঘৃণার বিরোধী।

চ্যারিটি কমিশন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য-সুইজারল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি

ব্রিটেনকে ঋণমুক্ত করতে পেনশন কাটছাঁট অবশ্যম্ভাবী, কষ্ট স্বীকার করতে হবে সরকারকে

স্প্রিং স্টেটমেন্ট ২০২৫ : গ্রেট ব্রিটেনের অর্থনীতি