TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আস্থা তলানিতে, চাপে স্টারমার প্রশাসন

যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও জনমনে এর বিপরীত ধারণা প্রবলভাবে বিদ্যমান—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে। মোর ইন কমন পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ভুলভাবে মনে করেন অভিবাসন বেড়েছে, যা সরকারের নীতিগত সাফল্যকে ছাপিয়ে জনআস্থার ঘাটতিকে সামনে এনেছে।

 

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে ২ লাখ ৪ হাজারে নেমে এসেছে, যা মহামারির পর সর্বনিম্ন। অথচ জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অভিবাসন বেড়েছে। রিফর্ম ইউকে সমর্থকদের মধ্যে এই ধারণা আরও প্রবল—পাঁচজনের চারজন মনে করেন অভিবাসন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬৩ শতাংশের মতে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

জরিপে সরকারের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়েও গভীর অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে। ৭৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের ওপর তাদের অল্প বা কোনো আস্থা নেই। মাত্র ১৮ শতাংশ ভোটার সরকারের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় কম। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো—২০২৪ সালে লেবারকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যেই আস্থা কমেছে ১৭ শতাংশ পয়েন্ট।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ গত নভেম্বরে আশ্রয় ব্যবস্থায় “এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার” আনার ঘোষণা দেন। নতুন পরিকল্পনায় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পেতে ২০ বছর অপেক্ষা, আশ্রয়প্রার্থীদের সম্পদ জব্দ, পরিবার পুনর্মিলন সীমিত করা এবং নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এসব কঠোর নীতির পরও জনমনে আস্থা ফিরছে না। মোর ইন কমনের নির্বাহী পরিচালক লুক ট্রাইল বলেন, লেবার সরকার অভিবাসন নিয়ে একটি ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়েছে। তার মতে, কেবল পরিসংখ্যানের উন্নতি যথেষ্ট নয়—জনমনের আস্থার ব্যবধান দূর না হলে রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই থাকবে।

ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি জনমতের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ ভোটার চান সরকার প্রধানত এই নৌকাগুলো থামানোর দিকে মনোযোগ দিক। যদিও বাস্তবে ছোট নৌকায় আগত’রা মোট অভিবাসীর খুবই ক্ষুদ্র অংশ—২০২৫ সালে তা ছিল পাঁচ শতাংশেরও কম।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বছরে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি হলেও ২০২২ সালের সর্বোচ্চ সংখ্যার নিচে। তবুও এই দৃশ্যমান প্রবাহ জনমনে অভিবাসন বৃদ্ধির ধারণাকে আরও জোরালো করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, সঠিক অভিবাসন তথ্য জানানো হলেও পাঁচজনের একজনেরও কম ভোটার এই হ্রাসের কৃতিত্ব বর্তমান সরকারকে দেন। প্রায় সমান সংখ্যক ভোটার এর কৃতিত্ব আগের কনজারভেটিভ সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছেন, যা স্টারমার প্রশাসনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করে।

এদিকে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে ভিসা আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন ৩৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য ও যত্ন খাতের ভিসা আবেদন ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সরকার এটিকে নীতিগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে, এতে গুরুত্বপূর্ণ খাতে জনবল সংকটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

লেবার এমপি কিম জনসন সতর্ক করে বলেন, রিফর্ম ইউকের মতো দলের ভাষা ও অবস্থান অনুকরণ করলে বর্ণবাদ বাড়তে পারে এবং কর্মী ভিসা হ্রাসের ফলে স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন খাত গভীর সংকটে পড়তে পারে। তার মতে, সরকারকে অবশ্যই অভিবাসন নিয়ে একটি ইতিবাচক ও মানবিক বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে হবে, নচেৎ বিভাজনমূলক রাজনীতির সুফল বিরোধী দলগুলোই পাবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

মাকড়শার কামড়ঃ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন ব্রিটিশ পর্যটক

বরিস জনসনের তীব্র সমালোচনা করলেন আয়ারল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে বাড়ছে মন্দার ভাব, বাড়ির দাম কমছে